গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদরাসাশিক্ষক মোসলিম উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার গাজীপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর সোমবার টঙ্গীর ওই মাদরাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর শিশুটি মাদরাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করে। পরিবারের সদস্যরা এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু জানায়নি। পরে মা-বাবার কাছে ঘটনার কথা প্রকাশ করে।
এরপর ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার তদন্তে পুলিশ মাদরাসা পরিদর্শন করে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান।
গাজীপুর মহানগর আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী জানান, শিশুটি আদালতের বিচারকের কাছে ঘটনার বিবরণ দিয়েছে। বিচারক তার বক্তব্য জবানবন্দি হিসেবে রেকর্ড করেছেন।
এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর, মাদরাসায় ভাঙচুর ও অর্থ লুটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিশুটির পরিবার এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদরাসায় প্রবেশ করে শিক্ষককে মারধর করে। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদরাসার কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুট করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।
অন্যদিকে, শিশুটির বাবা বলেছেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদরাসায় গিয়েছিলেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। মাদরাসায় ভাঙচুর এবং ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মেয়ের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন তিনি।
অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং মাদরাসায় ভাঙচুর ও অর্থ লুটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগসহ ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।