নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন হাজারো বিক্ষোভকারী। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির রাজধানী তেল আবিবে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা…
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ইরাননীতি ও হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নেমে তিনি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র ১০ দিন বাকি থাকতে শনিবার নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন বারাক ওবামা। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ড ও মিশিগানের ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের পাশাপাশি কঠোর সমালোচনা করেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের লাগাম টানার সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন ওবামা। মিশিগানে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের পক্ষে প্রচারে গিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির ‘অন্তত কিছু নির্বুদ্ধিতার লাগাম টেনে ধরার’ সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ওবামা বলেন, ‘আমাদের সেই সার্কিট ব্রেকারটি উল্টে দিতে হবে এবং এই সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আনতে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ওবামার অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে ডেমোক্র্যাটরা। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা ওবামা দলটির অন্যতম জনপ্রিয় নেতা। তাঁর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে সমর্থকদের সক্রিয় করতে চাইছে দলটি।
মিশিগানে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। রজার্স যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক সদস্য। এই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে দুই দলের প্রচার আরও জোরালো হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ওবামা বলেন, ‘নিজেদের পকেট ভরতে জনগণের অর্থ ব্যবহার করে সরাসরি সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রেসিডেন্টকে এতটা দক্ষ হতে আমরা কখনো দেখিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে সুবিধা বিক্রি করতে এতটা আগ্রহী কোনো প্রেসিডেন্টকেও আমরা দেখিনি। এখন মনে হচ্ছে, দলটি দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার, অদক্ষ সরকার কিংবা কোনো সরকারই না থাকার পক্ষে দাঁড়িয়েছে।’
ওবামার এসব বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ব্যবসার মাধ্যমে অনুচিতভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। রয়টার্স ও ইপসোসের আগস্টের এক জরিপে দেখা যায়, ৬৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ট্রাম্প গত বছর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পরিবার অনুচিতভাবে লাভবান হয়েছেন। একই জরিপে ৬৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্পের নীতিগত সিদ্ধান্তে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রভাব রয়েছে।
তবে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের এসব মতামত ট্রাম্প বা তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণ করে না। বরং প্রেসিডেন্টের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি সিদ্ধান্তের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে জনমনে উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরে।
ইরান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিরও সমালোচনা করেন ওবামা। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ের দাবি নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্যকে বিদ্রূপ করে তিনি বলেন, এই সংঘাতের ফলে বরং ইরানের অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বেড়েছে।
ওবামার যুক্তি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে হামলার হুমকি দিয়ে ইরান আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর ফলে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো উদ্বেগের মধ্যে পড়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর ইরানের প্রভাব বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘এখন হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এই পথ দিয়েই তেল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়।’
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে সংঘাত বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওবামা। তাঁর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোর পরিবর্তে প্রশাসন তুলনামূলকভাবে গুরুত্বহীন বিষয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে ব্যঙ্গ করে ওবামা বলেন, তিনি নাকি সেনাদের চোয়ালের গড়ন ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অত্যন্ত মনোযোগী। বক্তব্যটির মাধ্যমে সামরিক বাহিনী নিয়ে প্রশাসনের কিছু অবস্থানকে বিদ্রূপ করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজ নিয়েও কটাক্ষ করেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের অধীনে ভবনটির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও সংস্কারকাজের ধরনকে তিনি রুচিহীন বলে ব্যঙ্গ করেন।
ওবামা বলেন, ‘তিনি হোয়াইট হাউসকে এমনভাবে সাজিয়েছেন, যেন সাদ্দাম হোসেন সেখানে একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন।’
বক্তব্যটি ছিল ট্রাম্পের পছন্দের জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জা নিয়ে ওবামার ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য। এর মাধ্যমে তিনি হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজের নান্দনিকতা ও প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা এবং কংগ্রেসে দলটির অবস্থান যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তিত হলে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য কংগ্রেসে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি বাড়ানো। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের জন্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনের আগে ওবামার এই প্রচার ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন গতি সঞ্চারের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের নীতি, প্রশাসনের জবাবদিহি এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের সম্পর্ককে সামনে এনে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইছে দলটি। তবে নির্বাচনে এসব প্রচারের প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ধারিত হবে ভোটের ফলাফলে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au