ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধে ৪০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি পাকিস্তানের
ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে পাকিস্তান। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন…
রাজধানীর মহাখালীতে কর্মস্থল থেকে সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও ডিবিসি নিউজের ক্রাইম চিফ রাজীব ঘোষকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সাংবাদিকেরা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দুই সাংবাদিকের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং আইনগত ভিত্তি না থাকলে তাঁদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং প্রতিষ্ঠানটির ক্রাইম চিফ রাজীব ঘোষকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে, নাকি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তাঁদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ না করে কর্মস্থল থেকে দুই সাংবাদিককে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁদের সহকর্মীরা। একই সঙ্গে তাঁদের বর্তমান অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিশের কাছে স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক হয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার কারণেই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. আখতার হোসেন জানিয়েছেন, একটি সংবাদ প্রচারকে কেন্দ্র করে ডিবিসি নিউজের কার্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ওই পরিস্থিতিতে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে নিরাপদে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তাঁদের আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক মুক্তাদির রশিদ রোমিও। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে সম্মানের সঙ্গে তাঁর কর্মস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো সাংবাদিককে ডিবি হেফাজতে নেওয়া আতঙ্কজনক এবং সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হামলার বহিঃপ্রকাশ।
ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। একই সঙ্গে তাঁর দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্যসচিব শেখ জামাল বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে নিজ কার্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা দুঃখজনক ও নজিরবিহীন। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
তাঁরা আরও বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ ও ভীতি তৈরি করে। বিবৃতিতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করা হয়।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক এবং ডিবিসি নিউজের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
অন্যদিকে ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি এবং এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) বর্তমান সহসভাপতি রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি তানজিম আনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়টি স্পষ্ট না করে রাজীব ঘোষকে কার্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তাঁরা বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নির্বাচিত নেতার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতা ও নাগরিক অধিকারের জন্য অশনিসংকেত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার থাকলেও তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হতে হবে। কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হলে তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে আইনগত ভিত্তি এবং অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইন প্রয়োগের নামে কোনো নাগরিকের আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজীব ঘোষের অবিলম্বে মুক্তি দাবি জানায় সংগঠনটি।
রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও (ডিআরইউ)। বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, একজন সাংবাদিককে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেকোনো পদক্ষেপ প্রচলিত আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া উচিত।
ডিআরইউ নেতারা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁরা অবিলম্বে রাজীব ঘোষের অবস্থান তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে স্পষ্ট করার পাশাপাশি আইনগত ভিত্তি না থাকলে তাঁকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au