আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমনি
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি…
মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে জাহেদ বেপারী (৫০) নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ভিটিহোগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত জাহেদ বেপারী আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি মুন্সিগঞ্জ–৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থক ছিলেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে জাহেদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে তাঁকে অতর্কিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। বর্তমানে তাঁর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
নিহতের স্ত্রী বেবী বেগমের অভিযোগ, ফরিদ হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অভিযুক্ত ফরিদ হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তাঁরা বিএনপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন।
বেবী বেগমের ভাষ্য, জাহেদ ও ফরিদ অতীতে আওয়ামী লীগের দুই সাবেক সংসদ সদস্যের সমর্থক ছিলেন। রাজনৈতিক অবস্থান ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি স্থানীয় একটি মাজারের ওরস আয়োজন নিয়েও বিরোধের কথা জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। আগামী শুক্রবার ভিটিহোগলা গ্রামের ওই মাজারে ওরস আয়োজনের কথা রয়েছে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে জাহেদের বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে পরিবারের ধারণা। এসব বিরোধের কোনটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কাজ করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাবা হত্যার বিচার দাবি করে নিহতের বড় মেয়ে ফারিয়া আক্তার বলেন, তিন বোনের সামনে তাঁর বাবাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তাঁর প্রতিবন্ধী বোন মারিয়া ও ছোট বোন ইমা নিজের চোখে বাবার ওপর হামলার ঘটনা দেখেছে। এ ঘটনার স্মৃতি তাঁদের সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে উল্লেখ করে তিনি জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন জানান, প্রাথমিক তদন্তে পূর্ববিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। একাধিক বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফরিদ বেপারীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিরোধ, স্থানীয় দ্বন্দ্ব এবং মাজারের ওরস আয়োজনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের মধ্যে কোনটি হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা তাঁর পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au