রাত পোহালেই বিসিবি নির্বাচন
মেলবোর্ন, ৭ জুন- বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামীকাল রোববার। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ…
ফুটবলার হিসেবে দিয়েগো ম্যারাডোনা যেমন প্রতিপক্ষের জন্য ছিলেন কঠিন, জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে রোগী হিসেবেও চিকিৎসকদের জন্য ছিলেন ঠিক ততটাই কঠিন। অসুস্থ থাকা অবস্থায় যখন তাকে সেবা করা হতো তখন তিনি কারো কথায় ঠিক মত শুনতেন না। যখনই তাকে সেবা দেবার জন্য চিকিৎসকরা কাছে আসতো তখন নানা ধরনের ভনিতা করতেন। যার ফলে সেই সময় চিকিৎসকরা বেশ বিপাকে পড়েছিল ম্যারাডোনার চিকিৎসা করা নিয়ে।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর বুয়েনস এইরেসের এক ভাড়া বাড়িতে তিনি তার প্রাণ হারান। এরপর থেকেই তার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে দায়ী সাতজন চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে চলছে বিচারিক শুনানি।
বৃহস্পতিবার আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে দুজন চিকিৎসক তুলে ধরেন, রোগী ম্যারাডোনার ছিল চরম অসহযোগিতা ও উচ্চ ঝুঁকির চিত্র। ম্যারাডোনার অস্ত্রোপচার করা ক্লিনিকের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান সেবাস্তিয়ান ন্যানি জানান, দীর্ঘদিনের মাদক আসক্তির কারণে ম্যারাডোনা ছিলেন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রোগী। তাকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত হয়েছিল ব্যক্তিগত চিকিৎসক লুকের ইচ্ছায়, যদিও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তা সমর্থন করেনি। ন্যানির ভাষায়, ম্যারাডোনাকে অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তিনি নিয়ম মানতে চাননি।
আরেক চিকিৎসক, নিউরো সার্জন রোদোলফো বেনভেনুতি বলেন, রোগী ম্যারাডোনাকে সামলানো ছিল খুবই কঠিন। অস্ত্রোপচারের আগে সিটি স্ক্যানের জন্যও তাকে রাজি করাতে বেগ পেতে হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর বাড়িতে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিলেন ম্যারাডোনা, যদিও তৎকালীন তার শারীরিক অবস্থায় তা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়মমাফিক প্রতিদিন চিকিৎসকের পরিদর্শন প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তার একগুঁয়েমির কারণে সেটাও নেমে এসেছিল সপ্তাহে মাত্র একদিনে।
সাক্ষ্যগুলো ফুটিয়ে তোলে, কিংবদন্তি ফুটবলারের জীবন শেষ সময়ে কতটা অগোছালো ও কঠিন হয়ে উঠেছিল, আর চিকিৎসকরা কেমন চরম চাপের মধ্যে কাজ করছিলেন। যদিও যে ম্যারাডোনাকে সেবা দান করার জন্য সর্বত্র ও নিজেদের নিয়োজিত রাখতো চিকিৎসকেরা, তারাই এবার অপরাধী হয়ে আদালতে চক্কর কাটছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ম্যারাডোনা কে ঠিকমতো সেবা প্রদান করেননি তারা। কিন্তু ঘটনার প্রেক্ষাপট চিকিৎসকদের কাছ থেকে শুনলে দেখা যাচ্ছে এর ঠিক উল্টো চিত্র। ম্যারাডোনা নিজেই বরং চিকিৎসকদের কোনোভাবে সাহায্য করতেন না। উশৃংখল জীবন যাপনের কারণে শেষ সময় এসে বেশ বাজেভাবে অসুখের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তার উপরে চিকিৎসা ক্ষেত্রে নিজে থেকে সাহায্য না করার ফলে শেষমেষ প্রাণ হারাতে হয় ম্যারাডোনাকে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au