নিখোঁজের চারদিন পর বন্ধ ঘর থেকে উচ্ছ্বাস কর্মকারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- চার দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গভীর রাতে…
OTN Bangla ডেস্ক রিপোর্ট |
মেলবোর্ন, ০৭ মে— ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার ঘটনা এখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক আকাশপথেও। বাংলাদেশগামী অন্তত দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট মাঝ আকাশ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (৭ মে) রাতের প্রথম প্রহরে ভারত কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই হামলার পাল্টা জবাবে পাকিস্তান ভূপাতিত করেছে ভারতের দুটি সামরিক বিমান। এই সংঘাত শুরু হয় ২২ এপ্রিল, যখন বন্দুকধারীদের হামলায় ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ২৬ জন পর্যটক নিহত হয়। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেসব ফ্লাইট পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করে বাংলাদেশে আসছিল, তাদের যাত্রা অনিরাপদ হয়ে পড়ে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশগামী দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট — তার্কিশ এয়ারলাইন্সের TK-712 (তুর্কিয়ে থেকে আসা) ও কুয়েত এয়ারওয়েজের J-9533 (কুয়েত সিটি থেকে আসা) মাঝ আকাশ থেকে তাদের যাত্রা বাতিল করেছে। ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, তার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি মাঝপথ থেকে বাংলাদেশে আসা বন্ধ করে ওমানের মাসকট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অন্যদিকে, কুয়েত এয়ারওয়েজের ফ্লাইটটি প্রায় দেড় ঘণ্টা উড্ডয়নের পর আবার কুয়েতে ফিরে যায়।
এদিকে, কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর পাকিস্তানের মুজাফফরাবাদ, ভাওয়ালপুর এবং কোটলি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, এসব হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছে, যাদের একজন শিশু। আহত হয়েছে আরও ১২ জন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ভারতের হামলাকে ‘যুদ্ধের পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করে জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পাকিস্তানের আইএসপিআর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ জানান, পাকিস্তানও পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে এবং ভারতের দুইটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভারত কাপুরুষের মতো নিজ আকাশসীমা থেকেই হামলা চালিয়েছে, কিন্তু পাকিস্তানের আকাশে ঢুকতে সাহস পায়নি।
ভারত সরকার ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামের একটি সামরিক অভিযান চালু করেছে বলে নিশ্চিত করেছে। ভারত জানায়, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ৯টি জায়গায় সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে ভারতবিরোধী হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। তারা স্পষ্ট করেছে যে, পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাকে তারা লক্ষ্য করেনি, বরং জঙ্গি ঘাঁটিগুলোতেই আঘাত হেনেছে। হামলার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছে— “ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়েছে। জয় হিন্দ।” অপরদিকে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভারত বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং তাদের বাহিনী ঘর ছেড়ে না বের হওয়া পর্যন্ত আঘাত হানেনি।
ভারত-পাকিস্তানের এই সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা কেবল দুই দেশের নিরাপত্তা নয়, আঞ্চলিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক যাতায়াত ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। মাঝপথে ফিরে যাওয়া ফ্লাইট দুটি সেই অস্থিরতার প্রমাণ। এভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ ছাড়া স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠবে। মানবিক নিরাপত্তা ও শান্তির স্বার্থে দুই দেশের উচিত দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের পথ খুঁজে বের করা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au