ভোর রাতে সাইরেন বাজানোর পর আশ্রয়কেন্দ্রে জড়ো হন ইসরায়েলিরা। ছবি: বিবিসি
মেলবোর্ন, ১৩ জুন— তেহরানে হামলার জবাবে ইরানও ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে জেরুজালেমের সুপারশপগুলোয় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে খাদ্য ও পানি। মজুত করার জন্য মানুষ এখন এগুলো হুমড়ি খেয়ে কিনছে।
শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় বিবিসি।
গত রাত ৩টার দিকে সাইরেনের শব্দ ও মোবাইলের সতর্কবার্তায় ঘুম ভাঙে ইসরায়েলের জনগণের।
দেশটির সরকারের তরফ থেকে মানুষকে জানানো হয়, তাদের সামনে একটি “গুরুতর হুমকি” রয়েছে। তাই, সবাই যেন আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি স্থানে অবস্থান করে।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, সারা দেশে রক্ত সংগ্রহের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং যেসব রোগী বাড়ি ফিরে যাওয়ার মতো কিছুটা সুস্থ, তাদেরকে ছেড়ে দিচ্ছে ইসরায়েলের হাসপাতালগুলো।
অন্যদিকে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পশ্চিম তীরে সব ফিলিস্তিনি শহরে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
এইসব প্রস্তুতির মূল কারণ পাল্টা হামলার আশঙ্কা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে প্রায় ১০০টি ড্রোন ইতোমধ্যে ইসরায়েলের দিকে রওনা হয়েছে। এটি প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, ইরানের রয়েছে বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি।
শুক্রবার ভোরে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলায় দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার হোসেইন সালামি নিহত হয়েছেন। তিনি ছিলেন আইআরজিসির সর্বোচ্চ পদে আসীন এবং ইরানের সামরিক কৌশলের অন্যতম রূপকার। তার মৃত্যুতে আইআরজিসি’র নেতৃত্বে এক বড় শূন্যতা তৈরি হলো।
নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন- দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান হোসেইন বাকেরি, খাতামু আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম আলি রশিদ, এবং দুই পারমাণবিক বিজ্ঞানী মোহাম্মাদ মাহদি তেহরাঞ্চি ও ফেরিদুন আব্বাসি উল্লেখযোগ্য।