হায়দ্রাবাদে আটক সাত বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দ্রাবাদে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে সাত বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে…
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং স্বাক্ষরের আগে কয়েক দফা কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখার জন্য কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্ককে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি বড় সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে টোল বা বাধা ছাড়া জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা হবে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, “বিশ্বের জাহাজগুলো এখন স্বাভাবিকভাবে চলবে, তেলের প্রবাহ চলতে থাকবে।”
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জেনেভায় অনুষ্ঠেয় স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সেখানে অংশ নিতে পারেন।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিশ্চিত করেছেন যে, চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ইরানি পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কাতারের মধ্যস্থতায় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টার টানা আলোচনার পর সমঝোতার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়, যা পরবর্তীতে সমন্বয় করে চূড়ান্ত পাঠ তৈরি করা হয়।
তিনি জানান, পরবর্তী ধাপে ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামো নির্ধারণের আলোচনা চলবে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অগ্রাধিকার পাবে।
১৪ দফা চুক্তির খসড়ায় যেসব বিষয় রয়েছে-
ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খসড়া অনুযায়ী সম্ভাব্য চুক্তির মূল বিষয়গুলো হলো—
লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা
ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার
৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার
ইরান থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার
হরমুজ প্রণালি ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় চালু করা
ইরানের পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা
ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত
এই অঞ্চলে নতুন মার্কিন সামরিক সম্প্রসারণ না করার অঙ্গীকার
নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার মার্কিন প্রতিশ্রুতি
জব্দকৃত ইরানি তহবিলের অন্তত অর্ধেক মুক্ত করা
ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
নৌ অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া
চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া
তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের কোনো সরকারই এই খসড়ার সব বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
চুক্তির আগে দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েল ঘিরে উত্তেজনা চলছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয় বলে দাবি করা হয়। এরপর পাল্টা হামলা, আঞ্চলিক সংঘর্ষ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে নৌ অবরোধ আরোপ করে।
চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালি। ইউরোপীয় এই চার দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে যাতে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়।
তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন প্রতিরোধের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত প্রশমনে একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামরিক প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনা এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au