নিউইয়র্ক সিটির আসন্ন মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন পেলেন তরুণ রাজনীতিক জোহরান মামদানি। ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির শেষ রাউন্ডে বড় ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুওমোকে হারিয়ে এই মনোনয়ন নিশ্চিত করেন মাত্র ৩৩ বছর বয়সী এই রাজ্য আইনপ্রণেতা।
মামদানি ও তার সমর্থকদের কাছে এটি এক অসাধারণ অর্জন, যা তাকে নভেম্বরের নির্বাচনে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে এবং জাতীয় রাজনীতিতেও আলোড়ন তুলেছে। ডেমোক্র্যাটরা এখন মামদানিকে সর্বাত্মক সমর্থন দিচ্ছে।
এদিকে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানরা মামদানির বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাকে গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছেন। ফ্লোরিডার এভারগ্লেডসে এক অভিবাসী আটককেন্দ্র পরিদর্শনের সময় ট্রাম্প দাবি করেন, মামদানি নাকি “অবৈধভাবে” যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং মেয়র নির্বাচিত হয়ে যদি আইসিই–এর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) কাজে হস্তক্ষেপ করেন, তাহলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘‘আমরা বিষয়টি খুব সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। অনেকেই বলছে তিনি অবৈধভাবে এখানে আছেন। সব কিছুই খতিয়ে দেখা হবে।’’
শুধু ট্রাম্পই নন, রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগলস মামদানির নাগরিকত্ব বাতিল করে তাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ারও দাবি তুলেছেন।
তবে মামদানি এই অভিযোগের জবাব দিয়েছেন দ্রুতই। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ছোটবেলায় উগান্ডা থেকে তার পরিবার আইনগতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে এবং পরে তিনি বৈধভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন। বিবৃতিতে মামদানি বলেন, ‘‘আমি কোনো আইন ভাঙিনি; তবুও প্রেসিডেন্ট আমাকে হুমকি দিচ্ছেন, কারণ আমি আমাদের শহরকে আইসিইর ভয়ের রাজত্ব থেকে রক্ষা করতে চাইছি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এই বক্তব্য শুধু আমার নয়, বরং নিউইয়র্কবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে। আপনারা প্রতিবাদ করলে, তারা আপনাকে টার্গেট করবে।’’