সর্বশেষ

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফা শুল্ক বৈঠক শুরু আজ

  • 5:17 pm - July 09, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৬৬ বার
গত ৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪টি দেশের নেতাদের কাছে যে চিঠি পাঠিয়েছেন, তার পরপরই পুনরায় আলোচনা শুরু করা প্রথম দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ছবিঃ ডেইলি স্টার

ঢাকা, ৯ জুলাই-

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু হচ্ছে আজ বুধবার (১০ জুলাই)। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলকে এই বৈঠকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আলোচনা চলবে ১১ জুলাই পর্যন্ত।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪টি দেশের নেতাদের কাছে যে চিঠি পাঠিয়েছেন, তার পরপরই পুনরায় আলোচনা শুরু করা প্রথম দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা আগে প্রস্তাবিত ছিল ৩৭ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হচ্ছে যে, ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ আরও অনুকূল শর্তের দাবিদার। উল্লেখ্য, ভিয়েতনামের রপ্তানি পণ্যের ওপর সম্প্রতি ২০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে।

এ অবস্থায় শুল্কের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, যিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। এ ছাড়া বাণিজ্য সচিব ও একজন অতিরিক্ত বাণিজ্য সচিবসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন।

বাংলাদেশ আশা করছে, ২৭ জুন অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা থেকে যে অগ্রগতি হয়েছে, তার ভিত্তিতে দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এ প্রেক্ষাপটে মনে রাখতে হবে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের নীতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতিরই অংশ। এই নীতির লক্ষ্য ছিল আমদানি হ্রাস করে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া ও বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প মনে করতেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশেষ করে চীন, মেক্সিকো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলো অন্যায্য বাণিজ্যনীতি প্রয়োগ করছে।

২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন শত শত বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যের ওপর ১০–২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে, যুক্তি ছিল চীনের বাণিজ্যিক গুপ্তচরবৃত্তি, বৌদ্ধিক সম্পত্তি চুরি ও ভর্তুকির মাধ্যমে অন্যায্য সুবিধা গ্রহণ। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো বিভিন্ন পণ্যের ওপরও শুল্ক বসানো হয়েছিল, যেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য জরুরি হিসেবে দেখানো হয়।

সমালোচকরা বলেছেন, এ ধরনের শুল্কের ফলে দেশীয় বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমনকি কৃষিখাতে ক্ষতিপূরণ দিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতেও হয়েছে।

তবে ট্রাম্প এই শুল্ককে শুধু অর্থনৈতিক অস্ত্র হিসেবে নয়, বরং কূটনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন, যাতে প্রতিদ্বন্দ্বী বা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নতুন বা সংশোধিত বাণিজ্য চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধা আদায় করা যায়।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান দ্বিতীয় দফা বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। উভয় দেশই আশাবাদী যে, সমঝোতার মাধ্যমে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল ও টেকসই করা যাবে

সুত্রঃ ডেইলি স্টার

এই শাখার আরও খবর

পরিবারের দাবি, ফাঁসানো হয়েছে : চুম্বনের দাবিও নিশ্চিত নয়

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় অভিযোগ, আদালতের রায় এবং বাংলাদেশকে আগে অবহিত না করার কারণ জানতে চেয়েছে…

এবার জার্মানিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক শিক্ষার্থীদের

  জার্মানিতে শিক্ষা ও সামাজিক খাতে ব্যয় সংকোচন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের পরিকল্পনার প্রতিবাদে আগামী ৩১ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থী…

বিজয়া দশমীতে সিঁদুরের রঙে আনন্দ, দেবী বিদায়ে বিষাদ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  ছয় দিনের পূজা-অর্চনা শেষে বিদায়ের পালা দেবী দুর্গার। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন, দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জনের মধ্য…

‘পাপের লাশ দেশে আসুক চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন বিএনপির এমপি

সৌদি আরবে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিরোধিতা করে ‘পাপের লাশ দেশে আসুক চাই না’ মন্তব্য করেছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের…

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কি ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে?

সামরিক কৌশল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে একসঙ্গে চাপে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত, আঞ্চলিক মিত্রদের…

মাগুরায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ

মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au