নিহত চারজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও তাঁদের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত হয়নি। ছবিঃ নিহত ৪জন (সংগৃহীত)
মেলবোর্ন, ২১ জুলাই-
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত তিনজনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২১ জুলাই) সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত এই আদেশ দেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—রমজান কাজী, ইমন তালুকদার ও সোহেল রানা মোল্লা।
গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রোমানা রোজী এর আগে রোববারই (২০ জুলাই) মরদেহ উত্তোলনের মৌখিক নির্দেশ দেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে এ সংক্রান্ত আবেদন দাখিলের পর তা কার্যকর করার আদেশ আসে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত পৌরসভার গেটপাড়া কবরস্থানে পুলিশ অবস্থান করলেও তখনও ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত হননি।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রমজান কাজী ও ইমন তালুকদারের মরদেহ পৌরসভার গেটপাড়া কবরস্থান থেকে এবং সোহেল রানা মোল্লার মরদেহ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা হবে। পরে তিনটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।
গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ শহরে এনসিপির ঘোষিত পদযাত্রা ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, এতে গুলিতে নিহত হন রমজান, ইমন ও সোহেল। ওই দিনই দ্রুত তাদের দাফন করা হয়, তবে কোনো মরদেহেই ময়নাতদন্ত হয়নি। এ নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে।
তিনদিন পর, ১৯ জুলাই নিহতদের পরিবার ও দলীয় পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তদন্তের স্বার্থে মরদেহ উত্তোলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয় বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং গুলি চালানো হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্তে নতুন তথ্য যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে মরদেহ উত্তোলন এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরাও।
গোপালগঞ্জে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে সাম্প্রতিক এই সহিংসতা ও তার জেরে প্রাণহানির ঘটনা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মরদেহ উত্তোলন এবং পুনরায় তদন্তে নতুন কোনো সত্য বেরিয়ে আসে কি না, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।