ফেসবুকে ঘোষণার ৮ দিন পর গাইবান্ধায় শহীদ মিনার ভাঙচুর
গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রাঙ্গণে শহীদ মিনারের একটি অংশ হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৭টার…
রাষ্ট্র-মালিকানাধীন দেশের ছয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। গত ৩০ জুন ২০২৬-এর হিসাবে রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে উত্থাপিত ওই প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের ব্যাংকভিত্তিক চিত্র তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম জানতে চান, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কত এবং ব্যাংকভিত্তিক হিসাব কী। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তিক হিসাবে রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংক, অর্থাৎ অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি ও সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
ব্যাংকভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ ছয় রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের অর্ধেকেরও বেশি রয়েছে এককভাবে জনতা ব্যাংকে।
এর পরেই রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। রূপালী ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। বেসিক ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণ রয়েছে ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা। আর ছয় ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে কম খেলাপি ঋণ রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিতে। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
অর্থাৎ রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বড় অংশই কেন্দ্রীভূত রয়েছে কয়েকটি ব্যাংকে। বিশেষ করে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ অন্য ব্যাংকগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক মিলিয়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৩ হাজার ৭০৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। ফলে ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের বড় অংশ এই তিন ব্যাংকেই রয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ঋণ বিতরণের পর তা সময়মতো আদায় না হলে ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনা, মুনাফা এবং নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হয়। রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে, কারণ এসব ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থা ও সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থও জড়িত।
খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়লে ব্যাংকগুলোকে সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে সংস্থান রাখতে হয়। এতে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার একটি অংশ আটকে যেতে পারে এবং মূলধনের ওপর চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা ঋণ আদায়ে মামলা, বন্ধকী সম্পদ বিক্রি কিংবা পুনঃতফসিলের মতো প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হয়। ফলে একটি ঋণ খেলাপি হওয়ার পর সেটি আদায়ে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।
রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের এই চিত্র ঋণ বিতরণ ও আদায় ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের ঋণ কীভাবে অনুমোদন করা হয়েছে, ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম যাচাই করা হয়েছিল কি না, ঋণের অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার হয়েছে কি না এবং ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলো সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপি ঋণ কমাতে শুধু ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নিলেই হবে না, ঋণ অনুমোদনের সময় থেকেই ঝুঁকি মূল্যায়ন আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি এবং ব্যবসায়িক কারণে সাময়িক সমস্যায় পড়া ঋণগ্রহীতাদের আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ সব ধরনের খেলাপি ঋণকে একইভাবে দেখলে প্রকৃত সমস্যার সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের বড় অংশ যদি দীর্ঘদিন অনাদায়ী থাকে, তাহলে ব্যাংকের সম্পদের মান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায় করতে না পারলে ব্যাংকের নতুন করে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর প্রভাব বেসরকারি বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের ওপরও পড়তে পারে।
সংসদে দেওয়া অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ছয় রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণই ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। ফলে রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমানো এবং দীর্ঘদিনের অনাদায়ী ঋণ আদায় এখন ব্যাংক খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au