মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই-
রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এর আগে বিকেল পৌনে চারটার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর সেখানে পার্কিংয়ে থাকা কয়েকটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের সচিবালয় চত্বর থেকে বের করে দেয়। এরপর বাইরে চলে আসে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পরিস্থিতি।
এই বিক্ষোভের সূচনা ঘটে উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থী হতাহতের ঘটনার প্রেক্ষাপটে। শিক্ষার্থীরা দাবি করছে, এত বড় দুর্ঘটনার পরও এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গভীর রাতে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।
বেলা আড়াইটার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকে। অনেকেই “আমার ভাই মরল কেন?”, “ভুয়া ভুয়া”, “প্রশাসন জবাব দে” ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী জোনায়েদ আহমেদ বলেন, “রাত তিনটায় এসে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিলে আমরা তো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হবই। এর দায় শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের।”
আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের দাবিতেও সচিবালয়ে এসেছে বলে জানা গেছে।
সচিবালয়ের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় ভেতরে থাকা বহু যানবাহন আটকে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেয়।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা সোমবার দিবাগত রাত প্রায় তিনটার দিকে আসে, প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের পোস্টে, পরে মঙ্গলবার সকালে প্রেস সচিব ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
শিক্ষার্থীরা বলছে, এমন দায়িত্বহীনতা প্রশাসনের অযোগ্যতার পরিচয়। তারা শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এখনও থমথমে।