বিশ্ব

ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১

  • 6:08 am - September 07, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৩ বার
ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১। ছবিঃ সংগৃহীত

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি ফ্রন্টে তীব্র লড়াইয়ে উভয় পক্ষের এই প্রাণহানি হয়েছে বলে রোববার সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দুই সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে তাদের অন্তত ৮৪ সৈন্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই হুথিদের রকেট হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। অন্যদিকে হুথিদের চারটি সূত্র জানিয়েছে, একই সময়ে তাদের অন্তত ৫৭ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। ফলে একদিনেরও কম সময়ে উভয় পক্ষের মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪১ জনে।

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি ফ্রন্টে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে তায়েজ ও হোদাইদা প্রদেশ এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে ব্যাপক লড়াই চলছে। সামরিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, একাধিক এলাকায় একযোগে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় এবার প্রাণহানির সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছে।

রোববার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, হোদাইদার দক্ষিণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাইস জেলার নিয়ন্ত্রণ তারা হুথিদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করেছে। হাইস এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত, যেখান থেকে হোদাইদা, তায়েজ ও ইব্ব প্রদেশের মধ্যে যোগাযোগকারী সড়কপথে নজর রাখা যায়।

সরকারি বাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা পার্শ্ববর্তী আল-জারাহি জেলাতেও পাল্টা অভিযান চালিয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকজন হুথি যোদ্ধাকে আটক করার দাবিও করেছে তারা। এ ছাড়া তায়েজ ও লাহজ প্রদেশের আশপাশেও গোলাগুলি ও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার তায়েজ ও হোদাইদা এলাকায় হুথিদের অবস্থান, যানবাহন ও যোদ্ধাদের সমাবেশ লক্ষ্য করে অন্তত ১৫টি বিমান হামলা চালানো হয়। এর পরই বিভিন্ন এলাকায় স্থল সংঘাত আরও তীব্র হয়।

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালীকে ঘিরেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালীর আশপাশে হুথিদের সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর সরকারি বাহিনীর হামলা জোরদার হয়েছে বলে ইয়েমেনের সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

নতুন করে সংঘাত বাড়ায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর জানিয়েছে, তায়েজে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর মাত্র দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে এসব পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তায়েজ ও এডেনের মধ্যবর্তী একটি সড়কে বেসামরিক নাগরিকদের একটি সমাবেশে হুথিদের গোলাবর্ষণে চারজন নিহত ও আরও নয়জন আহত হয়েছেন। তবে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় হতাহতের এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।

ইয়েমেনে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়েছিল। ওই অস্ত্রবিরতির আনুষ্ঠানিক মেয়াদ ওই বছরের শেষ দিকে শেষ হয়ে গেলেও এর ফলে দেশটিতে কয়েক বছর ধরে আগের তুলনায় বড় আকারের সামরিক সংঘাত অনেকটাই কমে আসে। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন প্রদেশে আবারও লড়াই ছড়িয়ে পড়ায় সেই আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ২০১৪ সালে। ওই বছর ইরান-সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এর পর ২০১৫ সালে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি জোট। দীর্ঘ সংঘাতে দেশটির অবকাঠামো ও অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং লাখ লাখ মানুষ মানবিক সংকটে পড়ে।

বর্তমানে হুথিরা রাজধানী সানা ছাড়াও ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং তাদের মিত্র বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

ইয়েমেনের সংঘাতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। হুথিদের দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন দিয়ে আসছে ইরান। বিপরীতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন করছে সৌদি আরব। ফলে স্থানীয় গৃহযুদ্ধের পাশাপাশি সংঘাতটি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তায়েজ, হোদাইদা ও লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকায় সামরিক তৎপরতা আরও বাড়লে বেসামরিক মানুষের বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: এএফপি

এই শাখার আরও খবর

সন্তানকে সম্পত্তি দানের পরও বাবা-মায়ের অধিকার, সংসদে বিল পাস

সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও দখলে রাখার অধিকার নিশ্চিত করতে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে…

বিতর্কিত ১০০ কোটি ডলারের এলএনজি চুক্তি, বড় ধরণের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই রাজনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে উচ্চ ব্যয়ের একটি নতুন ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক…

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আরও ছয় মাস চলতে পারে: সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত আরও অন্তত ছয় মাস চলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেটা।…

রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা

রাষ্ট্র-মালিকানাধীন দেশের ছয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। গত ৩০…

কোণঠাসা বিজেপি কি ফের কট্টর হিন্দুত্বের পথে?

টানা আড়াই দশক ধরে ভারতের রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নানা কারণে এখন কিছুটা চাপে। এই পরিস্থিতিতে দলটি আবারও কট্টর হিন্দুত্বের রাজনীতির…

ইরান ছাড়তে জীবন বাজি রেখেছিলেন দুই ফুটবলার

ইরানের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানো যে তাঁদের জন্য কতটা ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা জানতেন ফুটবলার আতেফেহ রামেজানিসাদেহ ও ফাতেমেহ পাসানদিদেহ। কারাবাস, পরিবারের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au