ফিফার রেকর্ডে নেই লাল কার্ড, তবু পারেদেসের বিরুদ্ধে তদন্তে শাস্তির আশঙ্কা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: স্পেনের কাছে ১-০ গোলে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর ম্যাচ শেষে মাঠে ঘটে যাওয়া উত্তপ্ত সংঘর্ষের জেরে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে লাল কার্ড…
মেলবোর্ন, ২৬ জুলাই-থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত নিয়ে চলমান সংঘাত দ্রুত যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই। শুক্রবার ব্যাংককে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয়, তাহলে এটি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এটি সংঘর্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে।”
দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। যুদ্ধবিমান, কামান, ট্যাংক ও সেনা মোতায়েন করে সীমান্ত এলাকায় তীব্র লড়াই চলছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আজ শুক্রবার এই সংকট নিয়ে জরুরি বৈঠক করছে।

থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর দাবি, সংঘর্ষের সূচনা করে কম্বোডিয়ার সেনারা। ছবিঃ এএফপি
সংঘাতে কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী ওদ্দার মিনচেই প্রদেশে থাইল্যান্ডের হামলায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। থাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৪ জনই বেসামরিক এবং একজন সেনাসদস্য। আহত হয়েছেন ৪৬ জন, যাদের মধ্যে ১৫ জন সেনা।
সীমান্তের উভয় পাশ থেকে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। থাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত সীমান্ত এলাকা থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়া জানিয়েছে, ওদ্দার মিনচেই প্রদেশ থেকে ১,৫০০ পরিবারের মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। শুক্রবার সকাল থেকে থাইল্যান্ডের উবন রাচাথানি ও সুরিন প্রদেশে কাম্বোডিয়ার সেনারা ভারী কামান ও রুশ প্রযুক্তির বিএম-২১ রকেট লাঞ্চার ব্যবহার করে হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে থাই সেনারা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিরলভাবে ছয়টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে থাইল্যান্ড, যার একটি থেকে কাম্বোডিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। কম্বোডিয়া এই পদক্ষেপকে “নিষ্ঠুর সামরিক আগ্রাসন” বলে উল্লেখ করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়; ছবিঃ রয়টার্স
সংঘাত শুরু হয় একটি বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায়, যেখানে প্রথমে হালকা অস্ত্র ব্যবহার হলেও পরে তা ছয়টি স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভারী গোলাবর্ষণে রূপ নেয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে এবং নিজ দেশের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নিয়েছে। থাইল্যান্ডের অভিযোগ, কম্বোডিয়ান সেনাদের পাতা একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণে তাদের এক সেনা সদস্য পা হারিয়েছেন। কম্বোডিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী ৮৬টি গ্রাম থেকে প্রায় ৪০ হাজার বেসামরিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছবিঃ এএফপি
সীমান্ত এলাকায় বিস্ফোরণ ও ভারী অস্ত্রধারী সেনা মোতায়েনের দৃশ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্ত শহর সামরোং থেকে লোকজন মালপত্র নিয়ে দ্রুত এলাকা ছাড়ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পরিবার নিয়ে এক বৌদ্ধমন্দিরের দিকে রওনা দেওয়া প্রো বাক বলেন, “ভোর ৬টার দিকেই আবার গুলি শুরু হয়েছে। আমরা খুব ভয় পেয়েছি। জানি না, কবে ঘরে ফিরতে পারব।”
দুই দেশের মধ্যে শতাব্দী প্রাচীন সীমান্ত বিরোধের জেরে এই সংঘাত দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au