জইশ আল-আদল হামলার দায় স্বীকার করেছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ জুলাই- ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী জাহেদানে একটি আদালত ভবনে সশস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৬ জুলাই) এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে জানা গেছে, হামলাকারীরা আদালত ভবনের ভেতরে ঢুকে একটি হ্যান্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে মারলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন শিশু ও তার মা রয়েছেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে তিন হামলাকারীও নিহত হয়। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘জইশ আল-আদল’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা সাধারণ মানুষকে সংঘর্ষ এলাকা থেকে দূরে থাকতে আহ্বান জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জইশ আল-আদল হামলার দায় স্বীকার করেছে। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংঘর্ষের এলাকা থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন ‘হালভাশ’ প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানিয়েছে, হামলাকারীরা আদালতের বিচারকদের কক্ষে ঢুকে সরাসরি আক্রমণ চালায়। এতে আদালতের কয়েকজন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্য হতাহত হন।
সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে ইরানের সুন্নি মুসলিম বালুচ সংখ্যালঘুদের বসবাস, যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উপেক্ষা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ করে আসছে। এই অঞ্চলে প্রায়ই বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এসব গোষ্ঠীর দাবি, তারা নিজেদের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের জন্য লড়াই করছে।
তবে ইরান সরকার অভিযোগ করে আসছে, এই গোষ্ঠীগুলোর কয়েকটি বিদেশি শক্তির মদদে পরিচালিত হয় এবং তারা সীমান্ত পেরিয়ে চোরাচালান ও বিদ্রোহে অংশ নেয়।
কারা এই জইশ আল-আদল
জইশ আল-আদল, যার অর্থ “ন্যায়বিচারের সেনা”, ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় একটি সুন্নি মুসলিম সশস্ত্র গোষ্ঠী। মূলত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে তৎপর, যেখানে ইরানের বালুচ সংখ্যালঘু মুসলিমদের বসবাস। ২০১২ সালে গঠিত জইশ আল-আদলকে পূর্বের আরেকটি আলোচিত গোষ্ঠী ‘জন্দুল্লাহ’-এর উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জইশ আল-আদল। ছবিঃ টেররিজম মনিটর
ইরান সরকার এই সংগঠনকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে। সরকারের অভিযোগ, জইশ আল-আদল বিদেশি শক্তির সহায়তায় পরিচালিত হয় এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কাজ করে। সংগঠনটি ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বারবার সশস্ত্র হামলা, আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও অপহরণের মতো কার্যক্রম চালিয়েছে। তারা নিজেরা দাবি করে, এই লড়াই তাদের বঞ্চিত বালুচ জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম।
সংগঠনটির হামলার কেন্দ্রবিন্দু সাধারণত পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা। হামলার পর জইশ আল-আদলের সদস্যরা প্রায়ই সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যায় বলে ইরান সরকার দাবি করে। এ নিয়ে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিকবার কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ইরান সরকারের মতে, এই গোষ্ঠীর অনেক সদস্য সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গেও যুক্ত। অন্যদিকে জইশ আল-আদল নিজেদের কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধ’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়। তবে তাদের হামলায় বহু সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সুত্রঃ রয়টার্স