যাত্রা শুরুর আগে বিমানের একটি টায়ার বিস্ফোরিত হয় এবং সেটি থেকে সৃষ্ট ঘর্ষণ ও ব্রেক করার সময় আগুন ধরে যায়। ছবিঃ সিএনএন
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়ার পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে আগুন ধরে যায়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মাঝে। পরে বিমানের ১৫০ জনেরও বেশি যাত্রী ও ক্রুকে বিমানের স্লাইড ব্যবহার করে রানওয়েতে নামিয়ে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় একজন যাত্রী আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, শনিবার (স্থানীয় সময়) আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি ডেনভার থেকে মিয়ামির উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। এতে ১৭৩ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলেন। যাত্রা শুরুর আগে বিমানের একটি টায়ার বিস্ফোরিত হয় এবং সেটি থেকে সৃষ্ট ঘর্ষণ ও ব্রেক করার সময় আগুন ধরে যায়।
ডেনভার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিভিয়ে ফেলে এবং যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনে। এ ঘটনায় পাঁচজন যাত্রীকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যিনি সামান্য আহত হয়েছেন।
এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানের সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসেন এবং বিমানটিকে সেবামুক্ত করে পরিদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য নতুন একটি বিমানে পুনরায় মিয়ামি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় যাত্রীদের দুঃখজনক অভিজ্ঞতার জন্য ক্ষমা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এফএএ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে। এর আগেই বিমানটি ১টা ১২ মিনিটে গেট থেকে ছাড়ার কথা ছিল। তবে ফ্লাইটওয়্যারের তথ্যমতে, এ দুর্ঘটনার পর ডেনভার বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২৪০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।
এ ঘটনাটি ডেনভার বিমানবন্দরে সাম্প্রতিককালে ঘটতে থাকা একাধিক বিমান দুর্ঘটনার মধ্যে আরেকটি। মার্চ মাসেও আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানের ইঞ্জিনে আগুন লাগার পর যাত্রীদের উইংয়ের ওপর দাঁড়িয়ে নেমে আসতে দেখা যায়। এছাড়া এপ্রিল মাসে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি বিমান উড্ডয়নের সময় একটি প্রাণীর সাথে ধাক্কা খায় এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবারের এই ঘটনার একজন যাত্রী, ১৭ বছর বয়সী শে আর্মিস্টেড জানান, “বিমানটি যখন রানওয়ে দিয়ে চলছিল তখন হঠাৎ বিকট আওয়াজ হয়। মনে হলো টায়ার ফেটে গেছে। বিমানে প্রচণ্ড কম্পন হচ্ছিল। এক পাশের দিকে হেলে যাচ্ছিল। আচমকা জোরে ব্রেক করে এবং আগুন ধরে যায়।”
আরেক যাত্রী, ১৬ বছর বয়সী মার্গারেট গ্যাস্টাফসন জানিয়েছেন, “আমি জানালার পাশে বসা ছিলাম। নিচ থেকে আগুন বের হতে দেখি। তখনই ভয় পেয়েছিলাম।”
যাত্রীদের কেউ কেউ আতঙ্কে চিৎকার করছিলেন। কেউ বলছিলেন, “আমরা সবাই মরে যাব।” যাত্রীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরে সবাই পেছনের দরজা দিয়ে স্লাইড ব্যবহার করে নিচে নামেন। পুরো প্রক্রিয়াটি ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এফএএ।
সুত্রঃ সিএনএন