বাসটির একটি চাকা বিস্ফোরিত হলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান; ছবিঃ ডন নিউজ
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চাকওয়াল জেলার বালকাসার ইন্টারচেঞ্জের কাছে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে ৯ জন যাত্রী নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৭ জুলাই) সকালে ইসলামাবাদ-লাহোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
চাকওয়াল রেসকিউ এর মুখপাত্র জানান, বাসটি ইসলামাবাদ থেকে লাহোর যাচ্ছিল। বালকাসার ইন্টারচেঞ্জের কাছে বাসটির একটি চাকা বিস্ফোরিত হলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বাসটি খাদে পড়ে উল্টে যায়।
চাকওয়াল জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. সাঈদ আখতার নিশ্চিত করেছেন, ঘটনাস্থলে আটজন যাত্রী মারা যান এবং পরে হাসপাতালে একজন নারী মারা যান। নিহতদের মধ্যে বাসের চালকও রয়েছেন।
বাসটিতে ৪০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে রেসকিউ ১১২২-এর তথ্য থেকে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে, যাদের একজনের বয়স আট মাস এবং আরেকজনের এক বছর। সবচেয়ে বয়স্ক নিহত ব্যক্তি ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী। আহতদের বয়স ১৬ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে।
নিহতদের মধ্যে ১৪ ও ২ বছর বয়সী দুই বোন রয়েছে, যাদের মা আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের মধ্যে ফিলিপাইনের এক নারী এমি ডেলা ক্রুজও রয়েছেন, যিনি লাহোরে বসবাস করেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছয়টি রেসকিউ ইউনিট, জাতীয় মহাসড়ক ও মোটরওয়ে পুলিশ, চাকওয়াল জেলা পুলিশ এবং ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে কল্লার কাহার তহশিল সদর হাসপাতালে এবং বাকিদের ও নিহতদের চাকওয়াল জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার মেডিকেল সুপার ডা. মুখতার সারওয়ার নিয়াজি জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি ১২ জন আহতের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, যাদের রাওয়ালপিন্ডিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
চাকওয়াল জেলা পুলিশ কর্মকর্তা আহমেদ মোহিউদ্দিন ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন এবং ঘটনাস্থলে একটি সিনিয়র পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চাকওয়াল রেসকিউ ও সেফটি অফিসার শওকত আলী বলেন, “আমাদের টিম দ্রুত এবং পেশাদারভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং মৃতদেহগুলো হাসপাতালে পাঠানো হয়।”
তিনি সাধারণ জনগণকে দীর্ঘ ভ্রমণের আগে গাড়ির চাকা, ব্রেক ও স্টিয়ারিং সিস্টেমসহ পুরো যানবাহনের নিরাপত্তা যাচাই করার আহ্বান জানান, যাতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে মহাসড়কে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে প্রায়ই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
সুত্রঃ ডন নিউজ