গুলশান থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে গেলে তারা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উগ্র আচরণ করে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই- বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাজধানীর গুলশানে সাবেক এক নারী সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে পুলিশের প্রতি অবমাননাকর ও হুমকিমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশান থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে গেলে তারা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উগ্র আচরণ করে। এমনকি গ্রেপ্তারের সময় হ্যান্ডকাফ পরাতে গেলে তারা থানায় আগুন দেওয়ার হুমকি দেয় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের চাকরি খেয়ে ফেলারও ভয় দেখায় বলে জানান সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য ও বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী।
গুলশানের ওই বাড়ির দারোয়ান হান্নান জানান, ‘গ্রেপ্তারের সময় তারা পুলিশের চাকরি খেয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল।’ অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ‘গ্রেপ্তারের সময় তারা খুবই আগ্রাসী আচরণ করেছে। হ্যান্ডকাফ পরানোর সময় তারা থানায় আগুন দেওয়ার হুমকি দেয়।’
গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক ইব্রাহীম হোসেন মুন্না, সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান (রিয়াদ) এবং আরেকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুলশান, বাড্ডা, বনানীসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই ফোনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

আটক ৫ জন; ছবিঃ সংগৃহীত
চাঁদাবাজির ঘটনায় ভুক্তভোগী শাম্মী আহমেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফর শনিবার মধ্যরাতে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, গত ১৭ জুলাই সকালে রিয়াদ ও গৌরব নামে দুইজন বাসায় গিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করেন। তিনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। এরপর শনিবার বিকেলে পুনরায় তারা আরও ৪০ লাখ টাকা দাবি করে। তখন জাফর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত গৌরব পালিয়ে যায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান জানান, ‘এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
এ ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “এদের শেকড় অনেক গভীরে। এখন কেবল ধরা পড়েছে বলেই সবাই অবাক হওয়ার ভান করছে।”
এদিকে চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া রিয়াদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি পরিচয়ের একটি কাগজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এ পরিচয় সঠিক নয় এবং এটি ভিত্তিহীন।