২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় প্রায় ৬০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবিঃ সিএনএন
মেলবোর্ন, ২৯ জুলাই- ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। আজ সোমবার (স্থানীয় সময়) নিউইয়র্কে শুরু হওয়া এ সম্মেলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স ও সৌদি আরব।
সম্মেলনটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আলোচনা পুনরায় সক্রিয় করা। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী ফিলিস্তিনকে বিভক্ত করে ইহুদিদের জন্য ইসরায়েল এবং আরবদের জন্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। যদিও ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
এএফপির তথ্যমতে, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৪২টি দেশ ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যার মধ্যে ফ্রান্সও রয়েছে। যুক্তরাজ্যও শিগগিরই এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে ২২১ জন ব্রিটিশ এমপি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। স্টারমার উত্তরে জানিয়েছেন, এই স্বীকৃতি অবশ্যই একটি বৃহৎ কূটনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হতে হবে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ নোয়েল ব্যারট ইঙ্গিত দিয়েছেন, জাতিসংঘের এ সম্মেলনে ইউরোপের আরও কিছু দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ানের মতে, দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের ধারনাটি অনেকটাই গুরুত্ব হারাচ্ছিল, তবে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অবস্থান নতুন করে কূটনৈতিক গতি সৃষ্টি করেছে।
তবে বাস্তবতার মাটিতে এই সমাধান কতটা সম্ভব, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়ে গেছে। গাজায় ২১ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসন, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং দখলকৃত এলাকা সংযুক্তকরণের পরিকল্পনা এই প্রক্রিয়াকে ভৌগোলিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
গাজার পরিস্থিতিও অবনতিশীল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৯ হাজার ৭৩৩ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে উপত্যকাটি। ইসরায়েল কিছু এলাকায় প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও তাতে সংকটের বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত গাজায় আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ করছে। তবুও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, অপুষ্টির হার এতটাই বেড়েছে যে, না খেতে পেয়ে আজও প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে একজন শিশু।
এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সম্মেলন কতটা কার্যকর হবে এবং তা আদৌ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব ভিত্তি তৈরি করতে পারবে কিনা—সে প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে।
সুত্রঃ এএফপি