গ্রামে এখনও আতঙ্ক কাটেনি; ছবিঃ ওটিএন বাংলা
মেলবোর্ন, ২৯ জুলাই- রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত আলদাদপুর গ্রামে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়িগুলো মেরামতের কাজ চললেও হামলার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। আতঙ্কে অনেকেই এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা ঘরের টিন সরিয়ে নতুন টিন লাগানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে মেরামতের জন্য কাঠ ও টিন পাঠানো হয়েছে। কাজ করছেন ৩০ জন কাঠমিস্ত্রি। স্থানীয় ইউপি সদস্য পরেশ চন্দ্র জানান, সোমবার গভীর রাতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সল ও পুলিশ সুপার আবু সাইম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

কিছুক্ষন পরপর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন সন্ধ্যা রানি; ছবিঃ ওটিএন বাংলা
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন গ্রামটির এক কিশোর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দিয়েছে—এমন অভিযোগ পায় পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই কিশোরকে আটক করে। পরে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
কিশোরের গ্রেপ্তারের পর উত্তেজিত জনতা দুবার মিছিল করে তার ও স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালায়। শনিবার রাত ১০টার দিকে দ্বিতীয় দফা হামলায় ভাঙচুর করা হয়। রোববার বিকেলেও হামলা চালানো হয় বলে জানান স্থানীয়রা। পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ১৫টি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। আহত হন পুলিশের এক কনস্টেবলও।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান মৃধা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় প্রশাসন থেকে টিন, কাঠ, চুলা, নলকূপ সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনটি ছাড়া সবাই বাড়ি ফিরেছেন।

ঘরের কোন আসবাব অবশিষ্ট নেই; ছবিঃ ওটিএন বাংলা
তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। হিরনবালা রানী বলেন, “ঘর ভেঙেছে, মালপত্র লুট হয়েছে, এখন ঘর বানিয়ে কী হবে?” অন্য বাসিন্দা আজো বালা জানান, “ভয়ে ঘুমাতে পারি না, মেয়েদের নিয়ে আতঙ্কে আছি।”
ঘটনার কারণে এলাকার আলদাদপুর দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় ও আলদাদপুর নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পাঠদান বন্ধ রয়েছে। স্কুলের সামনে অবস্থান করছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। প্রধান শিক্ষক কালী রঞ্জন রায় জানান, নিরাপত্তার কারণে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবার রাত ১০টার দিকে পাশের কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা চেকপোস্ট এলাকা থেকে একটি মিছিল আলদাদপুরে আনার চেষ্টা হয়। তবে পুলিশ তা আগেই থামিয়ে দেয়। গঙ্গাচড়া থানার ওসি আল এমরান জানান, প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
স্থানীয়রা বলছেন, মামলা না হওয়ায় এবং হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার না করায় তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।