মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে চান আইসিসি
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মধ্যেও নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে না আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। আদালতের প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন,…
মেলবোর্ন, ৪ আগষ্ট- ঢাকার বহুল প্রচারিত দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে চলছে এক জটিল অভ্যন্তরীণ সংকট। পত্রিকাটির সম্পাদক শামীমা এ খান অভিযোগ করেছেন যে একটি সংগঠিত গোষ্ঠী মব তৈরি করে জনকণ্ঠ ভবন দখলের চেষ্টা করেছে। অপরদিকে, অভিযুক্ত পক্ষ বলছে, তারা মালিকানা বা সম্পাদনার দায় নিচ্ছে না, বরং সাংবাদিকদের স্বার্থে একটি সম্পাদকীয় বোর্ড গঠন করেছে, যা গঠন করা হয়েছে ‘সর্বসম্মতিতে’। ঘটনাটি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম অঙ্গনে বিরাট আলোড়ন তুলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন মালিকপক্ষের সিদ্ধান্তে শনিবার জনকণ্ঠ-এর কিছু কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চাকরিচ্যুত কর্মীরা পত্রিকার সম্পাদক শামীমা এ খানকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে এবং নিজেদের মধ্যে একটি নতুন ‘সম্পাদকীয় বোর্ড’ গঠন করে পত্রিকার নিয়ন্ত্রণ নেন। তারা দাবি করেন, প্রতিষ্ঠান রক্ষায় তারা এই ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং পত্রিকার মালিকানা এখনো তাদের হাতে নেই।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা এবং গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের চীফ অপারেটিং অফিসার অবসরপ্রাপ্ত মেজর আফিজুর রহমান এবং এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পত্রিকাটির পরিকল্পনা উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন শিশির। তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো অবৈধ দখল হয়নি এবং পত্রিকাটির স্বার্থেই তারা এগিয়েছেন।
সম্পাদক শামীমা এ খান, যিনি বর্তমানে পত্রিকার প্রকাশকও, বিবিসি বাংলাকে জানান, “তারা পরিকল্পিতভাবে জনকণ্ঠ ভবনে মব তৈরি করে চাবি নিয়ে নিয়েছে। আমাকে এবং আমার দুই সন্তানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। পত্রিকার অ্যাকাউন্টস বিভাগ, প্রোডাকশন ফ্লোর সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সুযোগ নিয়ে জামায়াত ও এনসিপি ঘনিষ্ঠদের পত্রিকায় ঢোকানো হয়েছে। এরা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। এখন জনকণ্ঠকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
প্রতিপক্ষ বলছে, পত্রিকাটি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ছিল। কর্মীদের বেতন বকেয়া ছিল ৪ কোটিরও বেশি। মালিকপক্ষ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায়, তারা সমন্বিতভাবে একটি বোর্ড গঠন করেছে। আফিজুর রহমান বলেন, “আমি কোনো দখলের অংশ না। আমি পেশাদারিত্বের সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করেছি। আজ যারা চাকরিচ্যুত হয়েছে, তাদের বিষয়ে আমাকেও জানানো হয়নি।”
জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, “আমরা আলোচনা করে মালিকপক্ষকে বোঝাতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা কথা বলেনি। উল্টো রাজনৈতিক ইন্ধনে আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা দিয়েছে। আমরা পত্রিকার স্বার্থে কাজ করছি।”
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে আতিকউল্লাহ খান মাসুদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হওয়া জনকণ্ঠ এক সময় প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধপন্থী শক্তির মুখপত্র ছিল। রাজাকার, আলবদরদের নিয়ে ‘সেই রাজাকার’ সিরিজ প্রকাশ করে পত্রিকাটি পরিচিতি পেয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পত্রিকাটি ক্ষমতাসীনদের অনুগত বলে সমালোচিতও হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের গণমাধ্যমে এক ধরনের অদৃশ্য রদবদল শুরু হয়। জনকণ্ঠ-এর ক্ষেত্রেও সেটি এক প্রকট রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, পত্রিকাটির অভ্যন্তরে কর্মী পর্যায়ে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট নিয়োগ এবং চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই।
এই অবস্থায় জনকণ্ঠ ভবনে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছায় যখন গত শুক্রবার রাতে চাকরিচ্যুত কর্মীরা ভবনে অবস্থান নেয় এবং সাংবাদিক ইউনিয়নের কিছু নেতার সহায়তায় নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। তখন থেকেই মূল সম্পাদক ও মালিকপক্ষ পত্রিকাটিকে ‘দখল’ বলে অভিহিত করে প্রতিরোধের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, পাল্টা বক্তব্যে বোর্ড-গঠনকারী সাংবাদিকরা বলছেন, “জনকণ্ঠ আমাদের কর্মক্ষেত্র, কেউ আমাদের রাস্তায় ফেলে দিতে পারে না। মালিকপক্ষ দায়িত্ব পালন না করলে আমরা নিজেরাই দায়িত্ব নেব।”
এই দ্বন্দ্ব এখন শুধু একটি সংবাদপত্রের অভ্যন্তরীণ সঙ্কট নয়, বরং বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মালিকানা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন সবার নজরে।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au