আগে ‘শিবির’, এখন ‘ছাত্রলীগ’: বদলায়নি ট্যাগিংয়ের রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে চিহ্নিত করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও এই…
সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় আপাতত কারামুক্তি মিলছে না বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা ওই দুই মামলায় জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষে রুল যথাযথ ঘোষণা করে (রুল অ্যাবসলিউট) জামিনের আদেশ দেন বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন প্রশ্নে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে রোববার আদালত সেই রুল যথাযথ ঘোষণা করেন। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে করা আরও দুই মামলায় গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন তিনি।
আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। তাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী জয়া ভট্টাচার্য, অনুপ কুমার সাহা ও মিন্টু কুমার মণ্ডলসহ অন্যরা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম সুজন।
চিন্ময়ের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছে। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাঁর জামিন স্থগিত রয়েছে। অপর চারটি মামলার মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন। রোববার আরও দুই মামলায় জামিন পাওয়ায় ওই চার মামলায় তাঁর জামিন নিশ্চিত হয়েছে।
তবে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন থাকায় এখনই কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। ফলে হাইকোর্ট থেকে একের পর এক মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলার কারণে তাঁর মুক্তির পথ এখনও পুরোপুরি খুলছে না।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম সুজন বলেন, হাইকোর্ট দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জামিন দিয়েছেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নোট দেওয়া হয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ঘিরে মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের শেষ দিকে। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকার কাছ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।
রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাঁর জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হন। পরে তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে পৃথক মামলাও হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও-মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের সাম্প্রতিক দুই মামলার জামিনের আদেশ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনগত লড়াইয়ে নতুন অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও, অন্য মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর কারামুক্তির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au