পেলেটে ঝাঁঝরা মুখ, তবু অনুশোচনা নেই: হাসপাতাল থেকেই যন্তর মন্তরে ফেরার ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় আহত হয়েও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ২৫ বছর…
মেলবোর্ন, ৪ আগষ্ট- বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে কলকাতার পর্যটন ও বাণিজ্য খাত। এক বছরে শুধু কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ খ্যাত এলাকাটিতেই ক্ষতি হয়েছে এক হাজার কোটি রুপির বেশি। আর গোটা শহরজুড়ে বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এরপর নয়াদিল্লি বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যত বন্ধ করে দেয়। সীমিত কিছু ক্ষেত্রে জরুরি ভিসা দেওয়া হলেও তা খুবই নগণ্য সংখ্যক। ফলে চিকিৎসা, কেনাকাটা, শিক্ষা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ভারতগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলকাতার নিউ মার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের আশপাশের এলাকা—যা ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত। এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ছিল একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। এখানকার সাশ্রয়ী হোটেল, বাংলাদেশি খাবারের রেস্তোরাঁ, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র এবং চিকিৎসা-সুবিধা সহজলভ্য হওয়ায়, অনেক বাংলাদেশি এখানেই অবস্থান করতেন।
এখন সেইসব হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে, আর যারা টিকে আছে, তারা লোকসান গুনতে গুনতে খুঁড়িয়ে চলছে। ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী খান বলেন, “হোটেল, রেস্তোরাঁ, খুচরা ব্যবসা, ট্র্যাভেল এজেন্ট, কারেন্সি এক্সচেঞ্জ, চিকিৎসা ও পরিবহন—এই সব খাত মিলিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৩ কোটি রুপির ব্যবসা হতো। এখন তা প্রায় শূন্য।”
তিনি আরও বলেন, “নিউ মার্কেট ও বড়বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসাগুলোর ক্ষতি ধরা হলে গত এক বছরে ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি ক্ষতি হয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে বহু ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে পড়বেন।”
মারকুইস স্ট্রিটের একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির ম্যানেজার প্রবীর বিশ্বাস বলেন, “এক বছর আগেও এই সময়টায় পর্যটকে গিজগিজ করত এলাকা। বাসের জায়গা পাওয়া কঠিন হতো। আজকাল এমন দিন যায়, যেদিন একজন বাংলাদেশি পর্যটকও দেখা যায় না।”
বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল কারেন্সি এক্সচেঞ্জ ব্যবসাগুলোও প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। কারেন্সি এক্সচেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মোহাম্মদ ইন্তেজার বলেন, “আমরা টিকে থাকার জন্য লড়াই করছি। প্রতিদিন ক্ষতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।”
মিনি বাংলাদেশের একাধিক ব্যবসায়ীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংকট আসলে দ্বিতীয় ধাক্কা। প্রথম ধাক্কা ছিল কোভিড মহামারিতে। তখনও ব্যবসা ধসে পড়েছিল। এরপর মহামারির পর ব্যবসায়ীরা নতুন করে বিনিয়োগ করেন, ঋণ নেন। কিন্তু এখন এই রাজনৈতিক সংকট তাদের আবারও পথে বসিয়েছে।
রেস্তোরাঁ মালিক এন সি ভৌমিক জানান, “ব্যবসা ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এমন অবস্থায় দোকান খোলা রাখাটাই অলাভজনক। আমরা কোনোভাবে চলছি, কবে ভালো সময় ফিরবে, সেই আশায়।”
পর্যটননির্ভর আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হাজারো মানুষও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। হোটেল কর্মচারী, বাবুর্চি, গাড়িচালক, ট্যুর গাইডসহ অনেকেই এখন বেকার বা আয়হীন। এলিয়ট রোডের বাসিন্দা ফারহান রসুল বলেন, “দুইটা গাড়ি কিনেছিলাম মহামারির পরে চাহিদা বাড়ায়। আগে গ্রাহক ফিরিয়ে দিতে হতো। এখন মাসে ৫-৬টা বুকিং পাই, তাও স্থানীয়দের কাছ থেকে। আয় দিয়ে কিস্তিই দিতে পারি না।”
এই অবস্থা কবে কাটবে, কেউ জানে না। তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে আবারও বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড়ে ফিরবে ‘মিনি বাংলাদেশ’-এর হারানো প্রাণ। ততদিন পর্যন্ত টিকে থাকাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে হাজারো মানুষের জীবনে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au