নিজেদের স্বার্থেই রাশিয়ার তেল কেনে ভারত: রুশ রাষ্ট্রদূত
রাশিয়ার তেল ভারত নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই কেনে, রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করার জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে…
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১৫ আগস্ট আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। এই তথ্য পরে ক্রেমলিন থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনকে কিছু অঞ্চল ছাড়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও জেলেনস্কি তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের জনগণ তাদের ভূমি দখলদারদের উপহার দেবে না।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ১৫ আগস্টের এই বৈঠকের বিষয় প্রথম ঘোষণা দেন ট্রাম্প নিজেই সামাজিক মাধ্যমে। পরে ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র বলেন, রাশিয়ার কাছাকাছি থাকা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য আলাস্কা বৈঠকের স্থান হিসেবে ‘যৌক্তিক’।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড ছাড়তে হতে পারে— এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি হোয়াইট হাউসে বলেন, “আমরা কিছু ভূখণ্ড ফিরিয়ে আনব, কিছু অদলবদল করব। উভয়ের ভালোর জন্য কিছু অঞ্চল বিনিময় হবে।” তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
সিবিএস নিউজ জানায়, হোয়াইট হাউস ইউরোপীয় নেতাদের একটি সমঝোতায় রাজি করানোর চেষ্টা করছে। এর আওতায়, রাশিয়া দোনবাস ও ক্রিমিয়ার অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণ রাখবে, আর খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল ছেড়ে দেবে।
এর আগে পুতিন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে মস্কোতে বৈঠকে একই ধরনের প্রস্তাব দেন। তবে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতারা এই প্রস্তাবে সম্মত হবেন কি না তা অজানা। জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে শান্তি শর্ত নিয়ে ব্যাপক দূরত্ব রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সিবিএসকে জানিয়েছেন, ১৫ আগস্টের বৈঠকে জেলেনস্কির উপস্থিতির সুযোগ এখনও রয়েছে।
এদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনের ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, কিন্তু বড় কোনো সামরিক বিজয় অর্জন করতে পারেনি। ইস্তাম্বুলে তিন দফা আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে, যেখানে মস্কোর শর্তগুলোকে কিয়েভ ও তার মিত্ররা আত্মসমর্পণের মতো মনে করছে।
রাশিয়ার দাবির মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী সংকুচিত করা, ন্যাটোর সদস্য হওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করা, এবং পশ্চিমাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। মস্কো চায়, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বের চারটি আংশিক দখলকৃত অঞ্চল থেকে কিয়েভ তার সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করুক।
ট্রাম্প শুক্রবার বলেন, “ত্রিপক্ষীয় শান্তিচুক্তির সুযোগ আছে। ইউরোপীয় নেতারা, পুতিন এবং জেলেনস্কি সবাই শান্তি চান। জেলেনস্কি তার প্রয়োজনীয় সব পাবে।” তিনি বলেন, জেলেনস্কি এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন।
গত মাসে ট্রাম্প বিবিসিকে স্বীকার করেছিলেন, উইটকফের মস্কো সফরের পর পুতিন তাকে হতাশ করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এবং যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হলে আরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছিলেন। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেনি।
ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এটি ছিল রাশিয়ার পূর্ণ আগ্রাসনের পর তাদের প্রথম সরাসরি আলাপ। এর আগে ২০২১ সালে জেনেভায় জো বাইডেনের সঙ্গে পুতিনের সাক্ষাৎ হয়েছিল।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au