নিজেদের স্বার্থেই রাশিয়ার তেল কেনে ভারত: রুশ রাষ্ট্রদূত
রাশিয়ার তেল ভারত নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই কেনে, রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করার জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে…
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠ নামে এক নারীকে। তাকে মৃত ধরে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক শোক পালনের প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া চারতলা বাড়ির নিচ থেকে তার জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
নেপালের বেত্রাওয়াতি এলাকায় নিজের চারতলা বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠ। বন্যার পানি ও কাদার প্রবল স্রোতে বাড়িটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপের ভেতর তৈরি হওয়া একটি সরু ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নিয়ে কোনোভাবে বেঁচে ছিলেন তিনি।
শনিবার পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনালের নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী দল ওই বাড়ির আশপাশে তল্লাশি চালাচ্ছিল। একপর্যায়ে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তারা ‘বাঁচাও’ বলে ক্ষীণ একটি চিৎকার শুনতে পান। শব্দের উৎস শনাক্ত করার পর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় ধ্বংসস্তূপের একটি সংকীর্ণ জায়গা থেকে চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা।
উদ্ধারের পর তাকে দ্রুত সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনাল জানান, তিনি ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। পরিবারটি এরই মধ্যে তাকে মৃত ধরে নিয়ে ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল।
বেত্রাওয়াতি নেপালের সাম্প্রতিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। বন্যার পানির সঙ্গে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষে স্থানীয় বাজার এবং অধিকাংশ আবাসিক ভবন প্রায় পুরোপুরি চাপা পড়ে গেছে। ওই এলাকায় এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিত মানুষের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। ধসে পড়া ভবনের ফাঁকফোকরেও সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কোথাও কেউ আটকে থাকলে তার সাড়া পাওয়ার আশায় উদ্ধারকারীদের কেউ কেউ শিস বাজিয়েও খোঁজ চালাচ্ছেন।
এর কয়েক দিন আগে বেত্রাওয়াতির বাজার এলাকায় একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনাল জানান, উদ্ধার করা মরদেহগুলোর অনেকগুলোতেই পচন ধরেছিল।
নেপালে হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার ১১ দিন পরও প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে এই দুর্যোগে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হাজারো মানুষ এখনো নিখোঁজ কিংবা বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে আছেন।
এর মধ্যেই ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে আশার সঞ্চার করছে। শুক্রবার থেকে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় টানেলের ভেতর আটকে থাকা আরও তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে ব্যাপক প্রাণহানির মধ্যেও উদ্ধারকারীদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, আর ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত থাকার সম্ভাবনায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au