মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে চান আইসিসি
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মধ্যেও নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে না আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। আদালতের প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন,…
জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে দলটি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এই ফলাফল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো জার্মানির কোনো রাজ্যে এএফডির সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত এএফডি সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ জার্মানির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এর আগে থেকেই এএফডির সঙ্গে জোট গঠন বা সরকার পরিচালনায় সহযোগিতা না করার অবস্থান জানিয়ে রেখেছে।
স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির এই সাফল্য চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল জোটের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষও ব্যাপক। এআরডির একটি জরিপে দেখা গেছে, ৮৭ শতাংশ ভোটার ফেডারেল সরকারের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এএফডির শীর্ষ প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ড বলেন, তারা স্যাক্সনি-আনহাল্টে ইতিহাস তৈরি করেছেন। তার দাবি, ভোটাররা রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। দলটি এই জয়কে ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে।
এএফডি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন, ইউক্রেনকে জার্মানির সহায়তা কমানো এবং ইউরো মুদ্রা ত্যাগের মতো বিভিন্ন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে দলটি অভিবাসন কমানো, স্কুল ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে তথাকথিত ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ জোরদার এবং সরকারি সম্প্রচারব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
এ ছাড়া শরণার্থীদের সন্তানদের জন্য আলাদা শ্রেণিকক্ষ, স্কুলে রংধনু পতাকা নিষিদ্ধ করা, প্রতিদিন জার্মানির জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্কুলে জাতীয় সংগীত গাওয়ার বাধ্যবাধকতা, নাগরিক টহল ব্যবস্থা চালু এবং রুশ ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানোর মতো প্রস্তাব রয়েছে দলটির কর্মসূচিতে। নতুন বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে এএফডি।
এদিকে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার স্থানীয় শাখা এএফডিকে ডানপন্থি উগ্রবাদী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। ফলে দলটির সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে দেশটির মূলধারার দলগুলোর মধ্যে তীব্র আপত্তি রয়েছে।
তবে ছোট দল সাহরা ভাগেনকনেখট অ্যালায়েন্স বা বিএসডব্লিউ এ বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। দলটি প্রস্তাব দিয়েছে, দলীয় পরিচয়ের বাইরে একজন রাজ্যপ্রধানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা যেতে পারে এবং সেখানে বিভিন্ন দলের সমর্থন নেওয়া হতে পারে। তবে এএফডির প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ড এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সাবেক কমিউনিস্ট শাসিত পূর্ব জার্মানির অংশ ছিল স্যাক্সনি-আনহাল্ট। রাজ্যটির জনসংখ্যা ২০ লাখের কিছু বেশি। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জার্মানির রাজনীতিতে এএফডির প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। জাতীয় পর্যায়েও দলটির জনপ্রিয়তা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক ইনসা জরিপে এএফডির সমর্থন ২৮ শতাংশ, যেখানে রক্ষণশীলদের সমর্থন ২০ শতাংশ।
স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনের ফলাফল তাই শুধু একটি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়, বরং জার্মানির জাতীয় রাজনীতিতেও এএফডির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এই ফলাফল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জের সরকারের ওপরও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au