‘ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে কেউ পারবে না’
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সামরিক হুমকির জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন,…
মেলবোর্ন, ১২ আগষ্ট- রংপুরের তারাগঞ্জে দলিত সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তিকে ‘ভ্যান চোর সন্দেহে’ পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে কেন এই ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা বিতর্ক ও আলোচনা চলছে।
নিহতরা হলেন কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর এলাকার রূপলাল দাস এবং মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়াভাটা গ্রামের তার নিকটাত্মীয় প্রদীপ দাস। রূপলাল ছিলেন পেশায় মুচি, আর প্রদীপ ভ্যানচালক। তারা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ ফারুক জানিয়েছেন, গণপিটুনিতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, রূপলাল দাস তারাগঞ্জ বাজারে মুচির কাজ করতেন এবং এলাকায় অত্যন্ত পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। তার হত্যার প্রতিবাদে রবিবার তার মৃতদেহ নিয়ে স্থানীয়রা প্রধান সড়ক অবরোধ করেছিল।
নিহত রূপলালের মেয়ে নূপুর রবি দাস বলেছেন, ভ্যান চুরি ও মাদকসহ নানা অভিযোগ আসলেও তারা মনে করেন এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। যদিও তিনি ‘অন্য কারণ’ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
পুলিশ, নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রূপলালের মেয়ে নূপুরের বিয়ে মিঠাপুকুরের এক পরিবারের সঙ্গে আলোচনা চলছিলো, রোববার দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার কথা ছিল। ওই দিন প্রদীপ দাস নিজের ভ্যান নিয়ে মিঠাপুকুর থেকে রূপলালের বাড়িতে আসছিলেন। কিন্তু সয়ার ইউনিয়নে এসে রাস্তা হারিয়ে ফোন দেন রূপলালকে। নূপুর বলছেন, “জামাইবাবুকে (প্রদীপ রূপলালের ভাগ্নে জামাতা) আনতে বাবা বের হন। জামাইবাবুর ভ্যানেই তারা বাড়ি ফিরছিলেন।”
তবে কাজীরহাট সড়কের বটতলা এলাকায় কয়েকজন লোক তাদের থামিয়ে গণপিটুনি শুরু করে, যার ফলে দুজন গুরুতর আহত হন এবং পরে মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা বলছেন, প্রথমে তাদের ‘ভ্যান চোর’ বলে অভিযুক্ত করা হয়। রূপলাল বারবার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বা মেম্বারকে ফোন দিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু কেউ সাড়া দেননি। একটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, রূপলাল হাত জোর করে প্রাণ ভিক্ষা করছেন, বলেন “আমি চোর না, ডাকাত না, আমি জুতা সেলাই করি।”
পিটুনির সময় তাদের বুড়িরহাট স্কুল মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তারা জ্ঞান হারান। প্রায় দু’ঘন্টা পর পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নেন। হাসপাতালে রূপলালকে মৃত ঘোষণা করা হয়, আর রবিবার সকালে প্রদীপের মৃত্যু হয়। নিহতদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুর্শা ইউনিয়নের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করে।
দলিত সম্প্রদায়ের রংপুর বিভাগের সভাপতি মনিলাল দাস বলেন, “এই হত্যার প্রতিবাদে বিশাল মানববন্ধন হয়েছে, যা প্রমাণ করে ভ্যান চুরির অভিযোগ সঠিক নয়।” পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন ধরেই ভ্যান চুরির ঘটনা এলাকায় আলোচিত ছিল, যা নিয়ে লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ ছিলো। জুলাইয়ের শেষ দিকে ওই এলাকায় একটি শিশু হত্যার ঘটনা এবং ভ্যান চুরির অভিযোগও ছিল।
ঘটনাস্থলে ভ্যান ঘিরে থাকা লোকেরা ভ্যান থেকে বের হওয়া বোতলগুলোতে চোলাই মদ থাকার অভিযোগ করেন। দলিত সম্প্রদায়ের অনেকে নিজ বাড়িতে চোলাই মদ তৈরি করে সেবন করেন, যা তাদের জীবনযাত্রার অংশ। তবে কিছু লোক চোলাই মদ থেকে অসুস্থ বোধ করার অভিযোগে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, বটতলায় পৌঁছানোর আগেই ভ্যানে তিনজন নারী ছিলেন, যারা নেমে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পর ভ্যানটি ঘিরে ‘ভ্যান চুরি’ ও মদ রাখার অভিযোগ তুলে মারধর শুরু হয়।
নিহত রূপলালের মেয়ে নূপুর দাবি করেন, এই ঘটনার চুরি, ছিনতাই বা মাদক সম্পর্কিত কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, “বাবাকে এই এলাকার সবাই চিনে। এমন লোকজন কী রাতের বেলা এভাবে মারত?” এছাড়া ভ্যানটি তাদের জামাইবাবুর বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আগেও বাবাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল, শত্রুতার কারণ থাকতে পারে, যা তারা জানেন না।
কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কাজী মনির উদ্দিন জানান, রূপলাল ভালো মানুষ ছিলেন, কেন এমন ঘটনা ঘটলো তা বুঝতে পারছি না। ঘটনার স্থান সয়ার ইউনিয়নের সদস্য মিতাউর রহমান বলেন, “তাকে অন্যায়ভাবে মারা হয়েছে। চুরির অভিযোগ সঠিক নয়, সন্দেহভাজন পরিস্থিতিতে গণপিটুনি হয়েছে।”
দলিত সম্প্রদায়ের নেতারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলছেন, দুজনকেই ভালো মানুষ হিসেবে জানতেন তারা। মনিলাল দাস বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে পুলিশকে দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তাদের মেরে ফেলা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত কারণ পুলিশকে বের করতে হবে।”
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ ফারুক জানান, নিহত রূপলালের স্ত্রী মামলা করেছেন এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার আসল কারণ জানা যাবে। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
সুত্রঃ বিবিস বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au