এই কাজে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীও অংশ নেয়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- বাংলাদেশের বরগুনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের গ্রন্থাগার থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীসহ আওয়ামী লীগ সম্পর্কিত চার শতাধিক বই বের করে প্রকাশ্যে আগুনে পোড়ানো হয়েছে—এ দৃশ্য নিঃসন্দেহে সভ্য জাতির জন্য লজ্জাজনক ও কলঙ্কজনক। দুপুরে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিছু শিক্ষার্থী এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এ ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, আজও কিছু মানুষ বইকে শত্রু মনে করে, ইতিহাসকে ভয় পায়।
প্রশ্ন জাগে-যারা বই পোড়ায়, তারা কি কখনও বই পড়ে? সম্ভবত নয়। এরা হয়তো কখনও সেই বইয়ের একটিও পৃষ্ঠা চোখে দেখেনি। তবুও তাদের ভয়—কারণ বই মানুষকে জাগিয়ে তোলে, চিন্তা করতে শেখায়। তাই যারা আলোকে ভয় পায়, তারাই বইকে আগুনে সঁপে দেয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, বাঙালি জাতির পিতা। তাঁর নাম আর অবদান ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার মতো দুঃসাহস কেউ কখনও করতে পারবে না। বই পোড়ানো মানেই তাঁর অবদানকে অস্বীকার করা নয়, বরং নিজের অজ্ঞতাকে প্রকাশ করা। শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন-অর্থনীতি, কূটনীতি, নারীর ক্ষমতায়ন কিংবা ডিজিটাল প্রযুক্তির উন্নয়ন-সেটিও ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে থাকবে। তাই এখন হুজুগে মেতে সবকিছুকে খারাপ বলা শুধু অযৌক্তিক নয়, জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
আজকের এই বই পোড়ানোর ঘটনা একদিন ইতিহাসে কলঙ্কের দাগ হয়ে থাকবে। বই পোড়ানো মানে কেবল কাগজ পোড়ানো নয়—এটি একটি জাতির স্মৃতি, অর্জন আর ইতিহাসকে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা। কিন্তু ইতিহাস কখনও আগুনে পোড়ে না। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, সত্যকে দমিয়ে রাখা যায় না। বঙ্গবন্ধু যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন, তাঁর সম্মান চিরকাল অক্ষুণ্ন থাকবে।
যারা এই অপকর্ম করেছে, তাদের বিচার ইতিহাস নিজেই করবে। স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি নাড়িয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা চলছে, তা কখনও সফল হবে না। কারণ বঙ্গবন্ধু শুধু অতীতের নয়, তিনি বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতেরও প্রতীক।
সম্পাদকীয়- প্রদীপ রায়, সম্পাদক – ওটিএন বাংলা