অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য রেবেকা ব্রাউন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ মে- অস্ট্রেলিয়ার অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য রেবেকা ব্রাউনের প্রতি সমর্থন জানাতে একত্রিত হয়েছেন রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। সাম্প্রতিক কিছু গণমাধ্যমের খবরে অভিযোগ উঠেছে, সাবেক উপাচার্য জেনেভিভ বেলের পদত্যাগে রেবেকা ব্রাউনের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগকে ঘিরে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটের জন্য তাকে অন্যায়ভাবে দায়ী করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সমাবেশে অংশ নেন ক্যানবেরার ফেডারেল লেবার সদস্য অ্যালিসিয়া পেইন, এ সি টি সিনেটর ডেভিড পোকক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইয়ান চাব এবং গবেষক লিজ অ্যালেনসহ আরও অনেকে। তারা সবাই রেবেকা ব্রাউনের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।
২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা চালুর পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি নানা বিতর্ক ও সংকটের মুখে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে রেবেকা ব্রাউনের নিয়োগকে অনেকেই নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। এর আগে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জেনেভিভ বেল চাকরি ছাঁটাই এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সামাল দেওয়ার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত গত বছরের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন।
ন্যাশনাল টারশিয়ারি এডুকেশন ইউনিয়নের এ সি টি শাখার সম্পাদক ল্যাচলান ক্লোহেসি বলেন, রেবেকা ব্রাউন জোরপূর্বক চাকরি ছাঁটাই বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তা বাস্তবায়নও করেছেন। তার মতে, মানুষের কাজ ও ফলাফলের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি আরও বলেন, জেনেভিভ বেলের পদত্যাগে ব্রাউনের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে যদি তার কোনো ভূমিকা থেকেও থাকে, সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সিনেটর ডেভিড পোকক বলেন, বর্তমান সংকটের জন্য উপাচার্যকে দোষারোপ না করে বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা উচিত। তার মতে, চলমান সমস্যার জন্য কাউন্সিলই মূলত দায়ী এবং ব্রাউনকে লক্ষ্য করে সমালোচনা করা তাকে বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা হতে পারে।
গবেষক লিজ অ্যালেনও একই মত প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সমস্যার পেছনে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনাই বড় কারণ। তিনি কাউন্সিলের নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যদের পদত্যাগের আহ্বান জানান এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার কথা বলেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকেই শুধু এই বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পুরো দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার পরিচালন কাঠামোতেও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সিনেটর পোকক জানান, তিনি একটি বেসরকারি বিল নিয়ে কাজ করছেন, যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার একটি উন্নত কাঠামো নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে।
এদিকে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর জুলি বিশপের কাছেও প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছে। তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ