ফেসবুকে আমেরিকার বিরুদ্ধে কিছু বললেই মিলবে না ভিসা। ছবিঃ প্রতিকী
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- বিদেশে পড়াশোনা, কাজ বা উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তবে সেই পথ এখন আরও কঠিন হয়ে গেল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, নতুন অভিবাসন নীতিমালায় কর্মকর্তারা যদি মনে করেন কোনো আবেদনকারী ‘আমেরিকাবিরোধী’, তাহলে তার ভিসা আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) বলেছে, শুধু কর্মজীবন বা শিক্ষাজীবনের তথ্য নয়, আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া মন্তব্যও খুঁটিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে আমেরিকা-বিরোধী বক্তব্য, ইহুদিবিদ্বেষী মনোভাব বা কার্যকলাপ, কিংবা সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ভিসা মঞ্জুর হবে না।
প্রসঙ্গত, এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা প্রক্রিয়ায় সামাজিক মাধ্যম যাচাই বাধ্যতামূলক করেছিল। নতুন নীতিমালায় তাতে যুক্ত হলো ‘আমেরিকাবিরোধী মনোভাব’ যাচাইয়ের শর্ত। তবে নীতিমালায় ‘আমেরিকাবিরোধী’ শব্দটির সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। শুধু উল্লেখ করা হয়েছে যারা সন্ত্রাসে জড়িত, ইহুদিবিদ্বেষী, কিংবা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তারাই এই তালিকায় পড়বেন।
১৯৫২ সালের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনে (আইএনএ) বলা আছে, সমাজতান্ত্রিক দলের সদস্যরা, যারা বৈশ্বিক সমাজতন্ত্র প্রচার করেন, সুসংহত সরকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন কিংবা সহিংস উপায়ে মার্কিন সরকার উৎখাত করতে চান, তাদের ‘আমেরিকাবিরোধী’ ধরা হবে। এই অস্পষ্ট সংজ্ঞা নিয়েই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত দিলে কি সেটাও আমেরিকাবিরোধিতা হবে? আবার কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে সমালোচনা করলেও কি ভিসা বাতিল হতে পারে?
আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। কর্মকর্তারা ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, অথচ ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য প্রমাণ করা কঠিন হবে যে তারা আমেরিকাবিরোধী নন। মার্কিন অভিবাসন কাউন্সিলের ফেলো অ্যারন রেইখলিন-মেলনিক একে তুলনা করেছেন ১৯৫০–এর দশকের ম্যাককার্থিইজম-এর সঙ্গে, যখন সমাজতন্ত্রের অভিযোগে বহু মানুষ নিপীড়নের শিকার হন। হিউস্টনের অভিবাসন আইনজীবী স্টিভেন ব্রাউনের ভাষায়, “আমেরিকান মূল্যবোধ” বিষয়টির কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই, যা কর্মকর্তারা নিজের মতো ব্যবহার করতে পারেন।
ব্রিগহ্যাম ইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী লিলি লোপেজ বলেন, “এই নীতি কর্মকর্তাদের জন্য এমন দরজা খুলে দিচ্ছে, যেখানে তারা নিজেদের পক্ষপাত থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
এরই মধ্যে কঠোর ভিসা নীতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরেই ছয় হাজারের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল করা হয়েছে। জুন মাসে দপ্তর জানায়, কেউ যদি মার্কিন নাগরিক, সংস্কৃতি বা সরকারের প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখায়, তার ভিসা আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে।
ইউএসসিআইএস মুখপাত্র ম্যাথু ট্রাগেসার বলেছেন, “যারা আমেরিকাকে ঘৃণা করে এবং আমেরিকাবিরোধী মূল্যবোধ প্রচার করে, তাদের আমরা কখনোই আমেরিকার সুফল ভোগ করতে দেব না।”