যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস নিমিৎজ
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- লাতিন আমেরিকার জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেনা মোতায়েনের খবরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ভেনেজুয়েলায়। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ঘোষণা দিয়েছেন, সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সারা দেশে প্রায় ৪৫ লাখ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হবে। তার ভাষায়, কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ভেনেজুয়েলার পবিত্র মাটিতে হাত দিতে পারবে না।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছিল, তারা মাদক পাচার রোধের অংশ হিসেবে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি সম্ভাব্য নৌ-অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ-ও বলা হয়েছিল, তিনটি মার্কিন নৌবিধ্বংসী জাহাজ এবং প্রায় ৪ হাজার সেনা ভেনেজুয়েলার উপকূলে পাঠানো হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা ১৯ আগস্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো মার্কিন জাহাজ ভেনেজুয়েলার উপকূলে নেই এবং সেদিকে পাঠানোর কোনো নির্দেশও দেওয়া হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে টেলিভিশন ভাষণে প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেন, “এই সপ্তাহে আমি বিশেষ একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। সারা দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মিলিশিয়া প্রস্তুত থাকবে। এরা সবাই প্রশিক্ষিত, সংগঠিত ও সশস্ত্র।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের খবরকে অতিরঞ্জিত ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে মাদকের হুমকি থেকে রক্ষায় সব ধরনের শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত। তিনি আবারও জানান, মাদুরো ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট নন। যদিও এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। গত জুলাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর গ্রেপ্তারে তথ্য দিলে পুরস্কার দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৫ কোটি ডলার ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্র তাকে বিশ্বের অন্যতম বড় মাদক কারবারি আখ্যা দিয়ে ‘কার্টেল অব দ্য সানস’-এর প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। তবে ভেনেজুয়েলা সরকার এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে নাকচ করে দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার আলোচিত মিলিশিয়া বাহিনী প্রথম গড়ে তোলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ ২০০৫ সালে। ২০১০ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অংশ হয়। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার নিয়মিত সেনাবাহিনীতে সদস্য সংখ্যা প্রায় এক লাখ, আর মিলিশিয়ায় রয়েছে কয়েক মিলিয়ন সদস্য, যাদের অনেকেই কৃষক ও শ্রমিক।
আন্তর্জাতিক সামরিক শক্তি বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের র্যাঙ্কিংয়ে ১৪৫ দেশের মধ্যে ভেনেজুয়েলার অবস্থান ৫০তম। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম, রাশিয়া দ্বিতীয় এবং চীন রয়েছে তৃতীয় স্থানে।
সুত্রঃ ল্যাটিন এমেরিকা রিপোর্টস