ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের সেনারা শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান নিয়েছে। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা গাজা সিটিতে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। বুধবার দেশটির সেনাবাহিনী ঘোষণা দেয়, প্রাথমিক পর্যায়ে গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যে তারা অভিযান চালাচ্ছে এবং ইতোমধ্যেই সেনারা শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান নিয়েছে। একই দিনে সরকার হাজার হাজার রিজার্ভ সেনাকে ডেকে পাঠিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাও শুরু করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন বলেন, “আমরা গাজা সিটিতে প্রাথমিক হামলা শুরু করেছি। হামাস এখন দুর্বল ও বিধ্বস্ত এক গেরিলা বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। আমরা এই শহরে তাদের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে দমনে এগিয়ে যাচ্ছি।”
তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ থাকলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, হামাসের ঘাঁটি দখল ও দলটিকে পরাজিত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। অন্যদিকে হামাস এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতির পথে বাধা দিচ্ছেন এবং গাজা সিটিতে নিরীহ মানুষের ওপর “নৃশংস যুদ্ধ” চালিয়ে যেতে চান।

গাজা নগরীতে অভিযান চালাতে সীমান্তে ট্যাংক নিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের প্রস্তুতি। ছবি: এএফপি
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা সম্প্রতি গাজা সিটিতে পূর্ণাঙ্গ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। দেশটির সেনারা ইতোমধ্যেই গাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। যদিও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ এ পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহু সরকার অভ্যন্তরীণ চাপে আপস না করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ঝুঁকছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে গাজায় নতুন করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে হামাস। খান ইউনিসের কাছে টানেল থেকে বের হয়ে আসা অন্তত ১৫ জন হামাস যোদ্ধা গুলি ও অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণ চালায়। এতে একজন ইসরায়েলি সেনা গুরুতর আহত হন, আরও দুজন হালকা আহত হন। পরে আল- কাসসাম ব্রিগেড দাবি করে, তাদের এক যোদ্ধা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ চালিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে কাছাকাছি দূরত্বে লড়াই চালান।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার সর্বত্র ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। প্রায় ২.৩ মিলিয়ন মানুষের বসতি ছিলো এ এলাকায়। এখন বহু ঘরবাড়ি, স্কুল, মসজিদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

ইসরায়েলের নির্বিচার বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত গাজা। ছবি: রয়টার্স
হামাস আরব মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। এতে কিছু জিম্মি মুক্তি এবং ইসরায়েলে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের ছেড়ে দেওয়ার শর্ত রয়েছে। তবে ইসরায়েল বলছে, তাদের হাতে থাকা বাকি সব জিম্মিকে একসঙ্গে মুক্তি দিতে হবে। ইসরায়েলি তথ্য অনুযায়ী, এখনও ৫০ জন জিম্মির মধ্যে মাত্র ২০ জন জীবিত থাকতে পারে।
গাজা সিটিতে সেনাদের প্রবেশের আগে বেসামরিক মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। ইতোমধ্যেই গাজার ক্যাথলিক গির্জার পাশের এলাকাগুলোতে উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া শুরু হয়েছে।
হামাস প্রায় দুই দশক ধরে গাজা নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে এই যুদ্ধে তারা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংগঠনটি জানায়, সব জিম্মি মুক্তি দেওয়া সম্ভব, তবে তার বিনিময়ে যুদ্ধ থামাতে হবে। ইসরায়েল জোর দিয়ে বলছে, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামবে না।

ইসরায়েলি অভিযানে গাজা প্রায় ধ্বংস। ছবিঃ সংগৃহীত
এদিকে দেশটির ভেতরেও যুদ্ধ নিয়ে দ্বিধা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলি জনগণের বড় অংশ মনে করে যুদ্ধ শেষ করা উচিত যদি তা জিম্মি মুক্তির নিশ্চয়তা দেয়। শনিবার তেল আবিবে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি মুক্তির দাবিতে বিশাল সমাবেশও হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৫৮ শতাংশ মানুষ মনে করে জাতিসংঘের সব দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
সুত্রঃ রয়টার্স