রংপুরের চার খুন: তদন্তের কেন্দ্রে এখন পুলিশ কর্মকর্তা মাবুদ ও সনাতন
রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন আর শুধু কে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগমী ও ১২ বছরের ছেলে…
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- ভারতের অন্যতম পোশাক রফতানি কেন্দ্র তিরুপ্পুরে নেমে এসেছে ভুতুড়ে নীরবতা। এন কৃষ্ণমূর্তির গার্মেন্ট কারখানায় প্রায় ২০০টি সেলাই মেশিন থাকলেও কাজ করছে হাতে গোনা কয়েকজন। মার্কিন ব্র্যান্ডগুলোর শিশুদের পোশাক তৈরির শেষ অর্ডারগুলো নিয়ে কাজ করছেন তারা। ঘরের এক কোণে নতুন ডিজাইনের কাপড়ের নমুনা ধুলো জমে পড়ে আছে, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ৫০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক বুধবার থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের জন্য অন্যতম প্রধান রফতানি বাজার। পোশাক, চিংড়ি এবং হীরা–রত্নশিল্পের মতো খাতগুলোর বড় অংশের ক্রেতাই আমেরিকান খুচরা বিক্রেতারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্ক ভারতের ওপর কার্যত নিষেধাজ্ঞার সমান, বিশেষ করে যখন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের তেল ও অস্ত্র চুক্তির কারণে মার্কিন প্রশাসন আরও চড়া জরিমানা আরোপ করেছে।
তিরুপ্পুরে তৈরি হয় ভারতের মোট ১৬ বিলিয়ন ডলারের রেডি-টু-ওয়্যার পোশাক রফতানির এক-তৃতীয়াংশ। ‘টার্গেট’, ‘ওয়ালমার্ট’, ‘গ্যাপ’ ও ‘জারা’-র মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করে শহরটি। কিন্তু ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, সেপ্টেম্বরে অর্ডার শেষ হয়ে গেলে নতুন কাজ আর আসবে না। কৃষ্ণমূর্তি নতুন করে ২৫০ জন কর্মী নিয়োগ করেছিলেন ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনায়, কিন্তু এখন তাদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে।
আরেক কারখানায় অন্তর্বাস তৈরির কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম। প্রায় ১০ লাখ ডলারের পণ্য মার্কিন স্টোরে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত ছিল, কিন্তু ক্রেতারা অর্ডার বাতিল করে দিয়েছেন। মালিক শিবা সুব্রামণিয়ম বলছেন, “এইভাবে চলতে থাকলে কর্মীদের বেতন দেব কীভাবে?”
শুল্ক আরোপের ফলে ভারতীয় পোশাকের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। উদাহরণস্বরূপ, এক সময় মার্কিন বাজারে ১০ ডলারের একটি শার্ট এখন দাঁড়াবে ১৬.৪ ডলারে। অন্যদিকে, চীন থেকে একই ধরনের শার্ট পাওয়া যাবে ১৪.২ ডলারে, বাংলাদেশ থেকে ১৩.২ ডলারে এবং ভিয়েতনাম থেকে ১২ ডলারে।

ভারতে পোষাক খাতে বিপুলসংখ্যক মানুষের চাকরি হারানোর শঙ্কা রয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
গার্মেন্ট খাতের মতো রত্ন ও গহনাশিল্পও চাপে। মুম্বাইয়ের এক্সপোর্ট জোনে শত শত কর্মী হীরা পালিশ ও প্যাকিংয়ের কাজ করলেও উদ্যোক্তারা উদ্বিগ্ন সেপ্টেম্বরে ও অক্টোবরে বিক্রির ওপর শুল্কের প্রভাব নিয়ে। সাধারণত এই সময়েই ৩–৪ বিলিয়ন ডলারের গয়না যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়। আদিল কোতওয়ালের মতো ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাত্র ৩-৪ শতাংশ মার্জিনে কাজ করা সম্ভব নয় যখন শুল্ক বেড়ে যাচ্ছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
হীরা শিল্পের কেন্দ্র সুরাটও ধসের মুখে। আগে যে ইউনিটে মাসে ২০০০ হীরা পালিশ হতো, সেখানে এখন হচ্ছে মাত্র ৩০০। কর্মীদের ছাঁটাই করা হচ্ছে শত শত হারে। এক কর্মী বলেন, “এই জায়গাটা একসময় গমগম করত। এখন নীরবতা। জানি না আমাদের কী হবে।”
চিংড়ি খাতেও একই প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় চিংড়ি রফতানিকারক ভারত, যার প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র। শুল্ক বাড়ায় চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ০.৬২ থেকে ০.৭২ ডলার কমে গেছে, যা আরও নামতে পারে। ফলে পাঁচ লাখ চাষি এবং পরোক্ষভাবে আড়াই মিলিয়ন মানুষ ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। hatchery মালিক এম.এস. ভার্মা জানিয়েছেন, তারা আগে বছরে ১০০ মিলিয়ন লার্ভা উৎপাদন করতেন, এখন তা নেমে এসেছে ৬০–৭০ মিলিয়নে।
এ অবস্থায় ভারত সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে—কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক স্থগিত, নতুন বাণিজ্য অংশীদারিত্ব চুক্তি ইত্যাদি। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এত দেরিতে নেওয়া এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট হবে না।
‘গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ’-এর অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, “এবার মার্কিন ক্রেতারা মেক্সিকো, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকবেন।”
নরেন্দ্র মোদি ও ডোলাল্ড ট্রাম্প; ছবিঃ সংগৃহীত
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন, ভারত বেইজিং ও মস্কোর ঘনিষ্ঠতায় ‘লন্ড্রোম্যাট’ হয়ে গেছে। সর্বশেষ দিল্লিতে নির্ধারিত বাণিজ্য আলোচনা বাতিলও হয়েছে।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ গোপাল নাদুরের মতে, “এই মুহূর্তে ভারতের কাছে একমাত্র উপায় হলো আত্মনির্ভরতা বাড়ানো এবং বিকল্প বাজার খোঁজা। না হলে ট্রাম্পের এই শুল্ক দেশটির লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা বিপর্যস্ত করে তুলবে।”
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au