আবারও চালু হতে পারে বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চালুর…
জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে জুলাই শহীদদের পরিবারকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে কীভাবে এসব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে, কোন সংস্থা তা বাস্তবায়ন করবে এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদ থেকে কীভাবে শহীদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, সেই আইনি প্রক্রিয়া এখন নির্ধারণের কাজ চলছে।
সোমবার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আইন বা বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধানও আছে। তবে কোন প্রক্রিয়ায় এসব বাস্তবায়ন হবে, তা সাধারণ আইনে নির্ধারিত। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের কাছেও সুস্পষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হলে এর ‘রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট’ থাকবে। অর্থাৎ আগে দেওয়া রায়ের ভিত্তিতেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে। তাঁর মতে, এতে আইনগত কোনো সমস্যা নেই।
এখন প্রশ্ন হলো, শেখ হাসিনার নামে আসলে কী কী সম্পদ রয়েছে, যা বাজেয়াপ্তের আওতায় আসতে পারে? আর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটির মালিকানা কি শেখ হাসিনার নামে?

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ফাইল ছবি
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে শেখ হাসিনা যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, সেখান থেকে তাঁর ঘোষিত সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। নিজের হাতে নগদ অর্থ দেখিয়েছিলেন প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
এ ছাড়া তাঁর নামে ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত বা এফডিআর ছিল।
শেখ হাসিনা তিনটি মোটরগাড়ির তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করেন। এর একটি ছিল উপহার হিসেবে পাওয়া, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। অন্য দুটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয় প্রায় ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য দেখানো হয় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর আসবাবের মূল্য ছিল ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
হলফনামায় শেখ হাসিনা নিজের নামে ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেন। এসব জমির ক্রয়মূল্য দেখানো হয় ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। জমিগুলো টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে রয়েছে।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক জমিও নিজের নামে দেখিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ওই সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয় ৫ লাখ টাকা।

৩২ নম্বর বাড়ি। ফাইল ছবি
তবে তাঁর সম্পদের পরিমাণ নিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রশ্ন তুলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক গত বছরের ২২ মে এক ব্রিফিংয়ে জানায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় শেখ হাসিনা তাঁর নামে থাকা জমির পরিমাণ ৬ দশমিক ৫০ একর দেখিয়েছিলেন। ওই জমির ক্রয়মূল্য উল্লেখ করেছিলেন ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
দুদকের যাচাইয়ে তখন শেখ হাসিনার নামে ২৮ একর ৪১ শতকের বেশি স্থাবর সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া যায় বলে সংস্থাটি জানায়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দিয়েছিল দুদক।
গাজীপুর শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে মৌচাকের তেলিরচালা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের একটি বাগানবাড়ি রয়েছে।
স্থানীয় ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭০ সালের দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ওই জমি লিখে দিয়েছিলেন। পরে উত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিক হন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
পরবর্তীতে তাঁরা জমির কিছু অংশ সন্তানদের নামে লিখে দেন। এর ফলে জমির মালিকানায় আসেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ এবং শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক। নথিপত্র অনুযায়ী, ওই জমির পরিমাণ ২৯৭ শতক বা ৯ বিঘা।
শেখ হাসিনার নির্বাচনী হলফনামায় ঢাকার পূর্বাচলে তাঁর নামে একটি প্লটের তথ্য রয়েছে। ওই প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
এ ছাড়া শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর নামে এবং তাঁর পরিবারের আরও পাঁচ সদস্যের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি প্লট পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, ছোট বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক।
সব মিলিয়ে পরিবারের ছয় সদস্যের নামে ৬০ কাঠা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে এসব প্লট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে দুদকের মামলা চলছে।
শেখ হাসিনার নামে কোন সম্পদ রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হলেও ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি তাঁর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নয়।
ভূমি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটির মালিকানা রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে।
অন্যদিকে শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদনের মালিকানা রয়েছে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের নামে।
অর্থাৎ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সম্পদের তালিকায় পড়ে না। এর মালিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার রায়ে বলেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হলো। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে ট্রাইব্যুনালের আরও কয়েকটি রায়েও আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আশুলিয়ায় হত্যা এবং ছয়জনের মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ রয়েছে।
এখন এসব রায় বাস্তবায়নে সম্পদ শনাক্তকরণ, বাজেয়াপ্ত ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াই সামনে এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au