৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে প্রতিবেশী দাদা মোক্তার উদ্দিনকে (৫০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে প্রতিবেশী দাদা মোক্তার উদ্দিনকে (৫০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ নিত্যানন্দ সরকার এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোক্তার উদ্দিন পাটগ্রাম উপজেলার টেপুরগাড়ি এলাকার মৃত আবুল খায়েরের ছেলে।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশীর ১২ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন মোক্তার উদ্দিন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেন তিনি।
এরপর বিভিন্ন সময়ে ওই শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।
পরে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনাটি জানায়।
এ ঘটনায় ২০২০ সালের ২৬ মে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় মোক্তার উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মোক্তার উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি/স্পেশাল পিপি) অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এ রায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।