‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৩০ আগষ্ট- কয়েকদিন আগে একজন লেখকের ফেসবুক পোস্ট চোখে পড়ল। তিনি লিখেছেন “কয়েকমাস আগে এনসিপির অন্তত দুইজন নেতা আমার কাছে জানতে চেয়েছেন বিপদে পড়লে বিদেশে আসার সিস্টেম কি? আজকে যারা এর ওর ছবিতে জুতা দিচ্ছেন, আরিফ সোহেল থেকে শুরু করে যারা শেয়ার করে মজা নিচ্ছেন, আপনারা নিশ্চিত থাকেন আপনাদের দিকে এই জুতাগুলির প্রত্যেকটা ফেরত আসবে। একইভাবে আসবে মব এবং অবিচার।”
যেকোনো সমাজেই অবিচার একটা চেইন রিয়াকশনের মতো। আপনার সাথে কেউ অন্যায় করবে, সেটার বদলা আপনি নিতে না পারলে নেবে আপনার ছেলে-মেয়ে। এই কথাগুলো নিছক হতাশার নয়, বরং সময়ের নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। কারণ অবিচারকে যদি আইন দিয়ে দমন করা না যায়, তবে তা সমাজে ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে। একের পর এক প্রজন্ম অন্যায়ের দায়ভার বহন করে।
গতকালের OTN Bangla’র সংবাদে ফজলুর রহমানের বক্তব্য আমাদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি বলেছেন “আমি যে সবসময় বলি দেশটা বকলমে পূর্ব পাকিস্তান হয়ে গেছে। এটা বাংলাদেশ না। এটা এই দেশটা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির হাতে এখন বন্দি।” এটা নিছক রাজনৈতিক স্লোগান নয়। আজকের বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা যায় না, সংবিধানের প্রশ্ন তোলা যায় না, মুক্ত চিন্তার প্রকাশ করলে রাষ্ট্রশক্তির দমননীতি নেমে আসে। এ এক ভয়াবহ সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ, যেখানে ইতিহাস মুছে ফেলা হয়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে অপমান করা হয়, আর মুক্তচিন্তার মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়।
গত ২৮ আগস্ট ঢাকার এক গোলটেবিল আলোচনায় এই অমানবিক চিত্র আরও একবার স্পষ্ট হলো। ‘মঞ্চ ৭১’-এর আয়োজনে যখন মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় তথাকথিত ‘জুলাই যোদ্ধা’রা মঞ্চে হামলা চালায়। অধ্যাপক কার্জন বলেছিলেন “একটি শক্তি মুক্তিযুদ্ধ ও একাত্তরের চেতনার বিপরীতে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।
তারা বাংলাদেশের সংবিধানকে ধ্বংস করতে চায়।” তার বক্তব্য শেষ হতেই হামলা লাঠিসোঁটা, স্লোগান, এবং দমননীতি। শেষে কী হলো? মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের কণ্ঠস্বরগুলোকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনে’ গ্রেপ্তার করা হলো। অধ্যাপক কার্জন, সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, আরও ১৫ জন মুক্তচিন্তার মানুষ আজ কারাগারে।
প্রশ্ন হলো, ইন্টেরিম সরকার আসলে কী করছে? এটাই কি তাদের সংস্কার? এটাই কি ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি?
আমাদের মনে করিয়ে দিতে হয় প্রথম প্রশ্নটা “এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথা কিংস পার্টির কতজন এখন আশ্রয় খুঁজছে বিদেশে?” বাস্তবতা হলো, কেউই আশ্রয় পাবে না বিদেশে। যেদিকে তাকাবে, সেখানেই প্রতিরোধ দেখতে পাবে। যারা ভেবেছিল বিদেশ পালিয়ে যাবে, তারা ভুল করছে। আজকের পৃথিবী সবকিছুই নজরে রাখছে তোমাদের।
তোমরা এখন যা করছ তা শুধু অন্যায় না বরং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। অন্যায় কখনো টিকে না। ইতিহাস সাক্ষী, অন্যায়ের শিকল যতই শক্ত হোক না কেন, একদিন ভেঙে যায়। তাই আজ যারা মুক্তচিন্তার কণ্ঠরোধ করছে, সংবিধান ধ্বংস করছে, তারা নিশ্চিত থাকুক ন্যায়বিচার আসবেই। আর সেই ন্যায়বিচার শুধু আদালতের নয়, তা ইতিহাসের আদালতেও চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
-সম্পাদক, ওটিএন বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au