বরেণ্য চিত্রশিল্পী আতিয়া ইসলাম আর নেই, শিল্পাঙ্গনে শোক
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী আতিয়া ইসলাম আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভোগার পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন…
মেলবোর্ন, ২ সেপ্টেম্বর- আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় হাজারে। এখনো বহু মানুষ ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সহায়তা কামনা করেছে তালেবান সরকার।
তালেবান ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। নারীদের শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞাসহ কঠোর নীতির কারণে মানবিক সহায়তাও সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে ভূমিকম্পের এই দুর্যোগ মোকাবিলায় তারা এক কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার রাত পর্যন্ত উদ্ধারকাজ অব্যাহত ছিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী কুনার প্রদেশে। মাটির মাত্র ছয় মাইল গভীরে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়ায় ঘরবাড়িসহ অসংখ্য স্থাপনা ধসে পড়ে।
আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু এলাকায় এখনো উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারেননি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সারাফাত জামান বলেন, “আমাদের আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। কারণ অনেক মানুষ তাদের জীবন ও ঘরবাড়ি হারিয়েছে।”
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ইউসুফ হাম্মাদ জানান, আহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। কুনারের তিনটি গ্রামে প্রায় সব বসতবাড়ি ভেঙে গেছে, শুধু এই প্রদেশেই প্রাণহানি ঘটেছে ৬০০ জনের।
নুরগাল জেলার ঘাজি আবাদ গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এখনো ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধার করছেন। এক বাসিন্দা আবদুল্লাহ বলেন, “গ্রামের কোনো বাড়ি অক্ষত নেই। এমন দুর্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, জীবন এখানে যেকোনো মুহূর্তে শেষ হয়ে যেতে পারে।”
ভূমিকম্পে মাটির ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরু পাহাড়ি রাস্তাগুলো অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকার্য আরও জটিল হয়ে পড়েছে। এদিকে অ্যাম্বুলেন্সের সারি ও হেলিকপ্টারে জরুরি ত্রাণ ও আহতদের কাবুল ও নাঙ্গারহারে পাঠানোর দৃশ্য দেখা গেছে।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, হাজারো শিশু এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা জরুরি চিকিৎসা, পোশাক, তাঁবু, টারপলিন ও নিরাপদ পানির সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। একই সঙ্গে হাজারো গবাদি পশুও মারা গেছে, যা দূষণ ঠেকাতে দ্রুত সরিয়ে ফেলছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, দুর্গম এলাকা, সড়ক ক্ষতি ও আফটারশকের কারণে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ এগিয়ে এসেছে। যুক্তরাজ্য জরুরি সহায়তায় দিয়েছে ১ মিলিয়ন পাউন্ড, ভারত পাঠিয়েছে খাদ্যসামগ্রী ও তাঁবু, আর চীনও সাহায্যের প্রস্তুতি জানিয়েছে।
আফগানিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এর আগে ২০২২ সালে দেশটির পূর্বাঞ্চলে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল তালেবান সরকারের সময়ে প্রথম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
সুত্রল দ্যা গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au