এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কমল ৩৫৭ টাকা
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি…
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী আতিয়া ইসলাম আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভোগার পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আতিয়া ইসলাম বাংলাদেশের সমকালীন চিত্রকলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর শিল্পকর্মে সমাজে নারীর অবস্থান, পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারীর প্রতি বৈষম্য, সহিংসতা, নিপীড়ন এবং পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিবাদ উঠে এসেছে। একই সঙ্গে তাঁর ক্যানভাসে নারীবাদী আন্দোলনের চেতনা, প্রতিরোধ এবং আত্মমর্যাদার বিষয়গুলোও প্রাধান্য পেয়েছে। এ কারণেই তিনি একজন নারীবাদী শিল্পী হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
বাস্তবধর্মী চিত্রশৈলীতে কাজ করা আতিয়া ইসলাম শিল্পকে কেবল নান্দনিক প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি। বরং সমাজের অন্যায়, বৈষম্য, সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটকে তিনি তাঁর শিল্পভাষায় ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর ছবিতে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার, প্রতীকনির্ভর উপস্থাপনা, ব্যঙ্গাত্মক ভাষা এবং তীব্র বক্তব্য তাঁকে সমসাময়িক শিল্পীদের মধ্যে স্বতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে যায়। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে দেশের নারী শিল্পীদের মধ্যে তিনি নিজের স্বকীয়তা, স্পষ্ট বক্তব্য এবং ব্যতিক্রমী উপস্থাপনার জন্য ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন।
১৯৬২ সালে ঢাকায় জন্ম নেওয়া আতিয়া ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগ থেকে ১৯৮২ সালে বিএফএ এবং ১৯৮৫ সালে এমএফএ ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৮১-৮২ সময়ে চারুকলা ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষক হিসেবেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি দীর্ঘদিন ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সানবিমসে চিত্রাঙ্কন বিষয়ে শিক্ষকতা করেছেন। পাশাপাশি রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘ঝাপি স্কুল অব আর্ট’ প্রতিষ্ঠা করে শিশুদের চিত্রাঙ্কন শিক্ষা দিতেন। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ব্রিটিশ কাউন্সিলসহ নানা প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অলংকরণ ও বিচারক হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
দেশ-বিদেশে তাঁর শিল্পকর্ম ব্যাপকভাবে প্রদর্শিত হয়েছে। গ্যালারি ২১, বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টস এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে তাঁর একাধিক একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮১ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে ৬০টিরও বেশি দলীয় প্রদর্শনীতে তাঁর চিত্রকর্ম স্থান পায়।
তাঁর প্রথম একক প্রদর্শনীর বিষয় ছিল ‘নারী ও সমাজ’। দ্বিতীয় একক প্রদর্শনীতে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট এবং তৃতীয় একক প্রদর্শনীতে জীবনযাপন, রাজনীতি ও অর্থনীতিকে উপজীব্য করে আঁকা চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়।
শিল্পী হিসেবে তাঁর সাফল্যও ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৬ সালে জুনিয়র রেডক্রস জাতীয় চিত্র প্রদর্শনীতে প্রথমবারের মতো পুরস্কার অর্জন করেন। পরে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ১৮তম এশিয়ান আর্ট বিয়েনালে প্রধান পুরস্কার লাভ করেন, যা তাঁর শিল্পজীবনের অন্যতম বড় স্বীকৃতি।
পারিবারিক জীবনে আতিয়া ইসলাম ছিলেন প্রয়াত আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া ও আয়শা ইসলামের কন্যা। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর স্বামী শিল্পী হাসান মাহমুদ। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্রান্সপ্রবাসী চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের শ্যালিকাও ছিলেন তিনি।
শিল্পী হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারই রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে আতিয়া ইসলামকে দাফন করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au