তালা ভেঙে আ. লীগ নেতার বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকারসহ মালামাল চুরি
মেলবোর্ন, ২ জুলাই- নাটোর শহরের কানাইখালি মহল্লায় আওয়ামী লীগের নাটোর জেলা সভাপতি সিরাজুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বাড়ির একাধিক…
মেলবোর্ন ৩ সেপ্টেম্বর-চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিশ্বকে সতর্ক করে বলেছেন, মানবজাতি এখন দাঁড়িয়ে আছে শান্তি না যুদ্ধের সন্ধিক্ষণে। মঙ্গলবার বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে আয়োজিত চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজে তাঁর পাশে ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পশ্চিমা বিশ্বের কোনো শীর্ষ নেতা অংশ নেননি। তবে পশ্চিমা দুনিয়ায় ‘অপাঙ্ক্তেয়’ হিসেবে বিবেচিত পুতিন ও কিম ছিলেন প্রধান অতিথি।
শি জিনপিং বলেন, “আজ মানবজাতি শান্তি না যুদ্ধ, সংলাপ না সংঘর্ষ, জয়-জয় না শূন্য-সমতার খেলায় কোনটা বেছে নেবে সেই সিদ্ধান্তের মুখোমুখি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, চীনের জনগণ ইতিহাসের সঠিক পাশে রয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবিঃ রয়টার্স
খোলা ছাদের লিমুজিনে উঠে শি আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র—মিসাইল, ট্যাঙ্ক, ড্রোন ও সেনাদল পরিদর্শন করেন। আকাশে হেলিকপ্টার ব্যানার নিয়ে উড়তে থাকে। ৭০ মিনিটের এই কুচকাওয়াজ ছিল শৃঙ্খলা, প্রতীকী বার্তা ও প্রচারণায় ভরপুর।
মাও সেতুংয়ের ধাঁচের পোশাক পরে শি আগত রাষ্ট্রনেতাদের ইংরেজিতে অভিবাদন জানান—“নাইস টু মিট ইউ” ও “ওয়েলকাম টু চায়না”। চমকপ্রদভাবে হাজির হন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টও, যিনি দেশে কঠিন বিক্ষোভ পরিস্থিতির মুখোমুখি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়ে দেবেন ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উনকে, যখন আপনারা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন।” যদিও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি জানান, কুচকাওয়াজকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন না এবং শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক “খুব ভালো”।
শি জিনপিং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে চীনা জাতির “মহা পুনর্জাগরণের মোড় পরিবর্তন” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাপানি আগ্রাসন ঠেকিয়ে শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে চীন।
এই আয়োজনকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক জোটের দিকেও নজর রাখছেন বিশ্লেষকেরা। ২০২৪ সালের জুনে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এবার বেইজিং–পিয়ংইয়ং সম্পর্কও কি নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমন হলে এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে।
প্রথমবারের মতো কোনো উত্তর কোরিয়ান নেতা চীনের সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দিলেন। কিম জং উনের মেয়ে জু আ-এ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করলেন বাবার পাশে দাঁড়িয়ে, যাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি মনে করছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা।
নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেইজিংয়ে প্রধান সড়ক ও স্কুল বন্ধ রাখা হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে রাতভর মহড়া। দেশজুড়ে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও দলীয় কর্মী মোতায়েন করা হয় যেন কোনো অশান্তি না ঘটে।
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের গবেষক ওয়েন-টি সাং বলেন, “শি জিনপিং এই কুচকাওয়াজকে কাজে লাগাচ্ছেন দেখানোর জন্য যে সেনাবাহিনী সম্পূর্ণভাবে তাঁর পাশে আছে।”
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au