যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে নতুন করে কলেরার প্রাদুর্ভাব, মৃত ১২০
মেলবোর্ন,২ জুলাই-নযুদ্ধবিধ্বস্ত আফ্রিকার দেশ সুদানে নতুন করে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে কলেরা। সর্বশেষ প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গত মে মাস থেকে…
মেলবোর্ন, ১৩ সেপ্টেম্বর- নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে স্থানীয় সময় ৯টার দিকে রাজধানী কাঠমান্ডুর প্রেসিডেন্ট ভবন ‘শীতল নিবাসে’ তাকে শপথ পড়ান প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল। শপথ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ছাড়াও সেনাবাহিনীর প্রধান অশোক রাজ সিগদেল, জেন-জি বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর সবার সম্মতিতেই তাকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, নতুন এই সরকারকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শপথ নেওয়ার পরই সুশীলা কার্কি জানিয়েছেন, তার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার আকার ছোট রাখা হবে। আজ রাতেই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা, যেখানে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করবেন তিনি।
নেপালের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন সুশীলা কার্কি। এর আগে ২০১৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশটির প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে ইতিহাস গড়েন। বিচারপতি থাকাকালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তিনি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
নতুন এই সরকার গঠনের পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার বড় ভূমিকা রয়েছে। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে নেপালের জেন-জিরা। আন্দোলনের মধ্যে গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে দেশজুড়ে আন্দোলন। মঙ্গলবার বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করলে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি এবং পরে তিনি গা ঢাকা দেন। ওইদিন ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালায়। এমনকি অর্থমন্ত্রীকে রাস্তায় পেটানোর ঘটনাও ঘটে।
সুশীলা কার্কি ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, নেপালের উন্নয়নে ভারত সবসময় সহযোগিতা করেছে। তার অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা এবং কড়াভাবে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নেপালের এই অশান্ত সময়ের জন্য তাকে নেতৃত্বে আনার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au