আফ্রিকার দেশ সুদানে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া কলেরার প্রাদুর্ভাবে ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
মেলবোর্ন,২ জুলাই-নযুদ্ধবিধ্বস্ত আফ্রিকার দেশ সুদানে নতুন করে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে কলেরা। সর্বশেষ প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গত মে মাস থেকে দেশটির বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আরও অন্তত ১ হাজার ১০২ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে টানা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। হাসপাতাল, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কলেরা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে আগের দফার কলেরা প্রাদুর্ভাব শেষ হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে দেশজুড়ে আবারও সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এটি গত তিন বছরের মধ্যে সুদানে কলেরার তৃতীয় বড় প্রাদুর্ভাব।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সুদানে কলেরায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ। এ সময় প্রাণ হারিয়েছেন সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি।
ডব্লিউএইচওর সুদানবিষয়ক প্রধান ড. শিবলি সাহবানি বলেন, আগে সুদানে প্রায় প্রতি তিন বছর পরপর কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দিত। কিন্তু বর্তমানে যুদ্ধ, স্বাস্থ্যসেবার সংকট, চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি এবং দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের সীমাবদ্ধতার কারণে দেশটি প্রায় টানা সংক্রমণের মুখে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সামনে বর্ষা মৌসুম তীব্র হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কারণ, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ফলে নিরাপদ পানির সংকট বাড়বে এবং দুর্গম এলাকায় চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এতে কলেরা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুদান সরকার জানিয়েছে, সর্বশেষ প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে সংঘাতপূর্ণ পশ্চিম কার্দোফান রাজ্যে, যেখানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী উত্তর কার্দোফানেও প্রায় ৩০০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং সেখানে অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, পশ্চিম কার্দোফানের রাজধানী আল-উবাইদ এলাকায় নতুন করে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা রয়েছে। ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সুপেয় পানির সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে কলেরার পাশাপাশি অন্যান্য সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, যুদ্ধের কারণে নিরাপদ পানি, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। লাখ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সুদানের প্রায় ৪০ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুরোপুরি অচল হয়ে গেছে। বাকি প্রায় ৬০ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র সীমিত সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মানবিক সংস্থাগুলোর হিসাব বলছে, তিন বছরের এই গৃহযুদ্ধে সুদানে ইতোমধ্যে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। চলমান সংঘাত, স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধস এবং নতুন করে ছড়িয়ে পড়া কলেরা দেশটির মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।
সূত্র: এএফপি।