বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে অঙ্গীকার দেওয়া হয়েছিল, তা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে। বাড়ছে গণপিটুনি, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর দাপট ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা। এতে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অধীনে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনার নাটকীয় পতনকে বাংলাদেশের রাজনীতিকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ হিসেবে দেখা হয়েছিল। কিন্তু শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান না থাকায় ও দলাদলির কারণে দ্রুতই ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়। ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরি করা। বাস্তবে তা পরিণত হয়েছে ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলায়।
ইউরোপিয়ান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসিনার পতনের এক বছরে সারা দেশে ৬৩৭টি গণপিটুনির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। আইনগত সমাধানের জায়গায় এখন স্থান নিচ্ছে গণবিচার।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুলিশ একটি বিতর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে সহিংসতার মাত্রা স্বীকার করলেও সাম্প্রদায়িক হামলার দিককে খাটো করে দেখায়। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংখ্যালঘুদের ওপর ১ হাজার ৭৬৯টি হামলার মধ্যে ১ হাজার ২০০-এর বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ধর্মীয় নয়। কেবল ২০টি ঘটনা সরাসরি সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকাই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের বিরুদ্ধে উদাসীনতা ও সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর ২ হাজার ৪৪২টি সহিংস ঘটনার নথি রয়েছে। এর মধ্যে অগ্নিসংযোগ, খুন, যৌন সহিংসতা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন (ফেব্রুয়ারি ২০২৫) স্পষ্ট করে বলেছে, সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের ওপর হামলা ইচ্ছাকৃত এবং সরকারের নিষ্ক্রিয়তাই তা বাড়াচ্ছে। স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, এখন পর্যন্ত কেবল নামমাত্র তদন্ত হয়েছে। মোট মামলা হয়েছে ৬২টি, গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র ৩৫ জন।
এ সময়ে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোও দৃশ্যমানভাবে শক্তি অর্জন করেছে। চলতি বছরের মার্চে হাজারো হিজবুত তাহরীর সমর্থক ঢাকায় প্রকাশ্যে খিলাফত দাবি করে একাধিক মিছিল করে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গণমাধ্যমগুলোতে ভয়ভীতি তৈরি হয়েছে। নারীরা জনসমাগমস্থলে ক্রমবর্ধমান হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির এই অবনতিতে আসন্ন নির্বাচনের কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা না থাকলে সংখ্যালঘু প্রার্থী ও ধর্মনিরপেক্ষ কণ্ঠরা অবাধে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নির্বাচনী কর্মকর্তারা নিরাপদে কাজ করতে পারবেন না। আর সাধারণ ভোটাররা ভয়ের বাইরে থেকে অংশ নিতে পারবেন না।
সুত্রঃ এমএসএন নিউজ