ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’-এর দাপট, আলোচনায় ‘সিনার্স’ও
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ: লস অ্যাঞ্জেলসে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার ২০২৬। এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে “One Battle After Another”,…
মেলবোর্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর- “একজন অভিভাবককে হারানোকে দুর্ভাগ্য বলা যায়, মি. ওয়ার্দিং; কিন্তু দুজনকেই হারানো অসাবধানতার মতো দেখায়।”
অস্কার ওয়াইল্ডের বিখ্যাত নাটক দ্য ইম্পর্ট্যান্স অব বিং আর্নেস্ট-এ লেডি ব্র্যাকনেলের এই উক্তি এ সপ্তাহে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার কূটনীতিকদের কাছে অস্বস্তিকরভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় কূটনীতির ঝড় তুলে অন্তত দুটি বড় চুক্তি হাতে আনার আশা করেছিলেন—পাপুয়া নিউ গিনির (PNG) সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং ভানুয়াতুর সঙ্গে “নাকামাল এগ্রিমেন্ট।”
কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি দেশে ফিরছেন খালি হাতে। প্রতিশ্রুতি, যৌথ বিবৃতি আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে বটে, কিন্তু কিছুই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়নি।
গত কয়েক বছরের সফল কূটনীতির সঙ্গে এর প্রবল বৈপরীত্য। তখন অস্ট্রেলিয়া একের পর এক চুক্তি করে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থান শক্ত করেছিল। সাধারণত এসব চুক্তি নিভৃতে আলোচনার মাধ্যমে হয়, তারপর গোপনে স্বাক্ষরিত হয়ে পরিশীলিত অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়—যেখানে আলবানিজকে পাশে পাওয়া যায় হাস্যোজ্জ্বল প্রশান্ত মহাসাগরীয় নেতাদের।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ছবিঃ সংগৃহীত
কিন্তু এ সপ্তাহে চিত্রটি ছিল একেবারেই ভিন্ন। মেলানেশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির টানাপোড়েনে অস্ট্রেলীয় রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তারা ছিটকে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন, রাজনীতি “কিছুটা অনিশ্চিত।”
ব্যর্থতা সবসময় সমালোচনা ডেকে আনে। এবারও তাই হয়েছে। সরকারের প্রশান্ত মহাসাগরে চীনকে ঠেকাতে একের পর এক বড় চুক্তির চেষ্টা সমালোচকদের কাছে “নব্য ঔপনিবেশিক কৌশল”-এর ব্যর্থ প্রমাণ।
অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস দলের পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র ডেভিড শুয়েব্রিজ লিখেছেন,
“আলবানিজ ভানুয়াতুতে গিয়েছিলেন উপনিবেশবাদী পরিকল্পনা নিয়ে—চুক্তি হয়নি। এখন তিনি পাপুয়া নিউ গিনিতে যাচ্ছেন আরেকটি উপনিবেশবাদী পরিকল্পনা নিয়ে—চুক্তি নেই।”
তিনি যোগ করেন, “সম্ভবত সময় এসেছে আমাদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্রতিবেশীদের প্রকৃত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার, নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে নয়।”
অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী জোটও এটিকে “গুরুতর পররাষ্ট্রনীতি ব্যর্থতা” বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে এমন পুনঃপুন ব্যর্থতা অস্ট্রেলিয়ার অবস্থানকে দুর্বল করছে।
ভানুয়াতু ও পাপুয়া নিউ গিনির পরিস্থিতি এক নয়।
ভানুয়াতুর প্রধানমন্ত্রী জোথাম নাপাত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নাকামাল এগ্রিমেন্টে কিছু ধারা তার জোটের সদস্যদের অস্বস্তিতে ফেলছে, বিশেষ করে যেগুলো চীনকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়। উভয় পক্ষই আশা করছে বছরের শেষে চুক্তি হতে পারে, তবে পথ সহজ নয়।
অন্যদিকে, PNG-তে বিষয়টি আরও অস্পষ্ট। শোনা যাচ্ছে কিছু মন্ত্রী চুক্তির কিছু অংশ নিয়ে দ্বিধায় আছেন। তবে প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে, বিলম্ব কেবল প্রক্রিয়াগত কারণে এবং দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন ব্যস্ততার জন্য।
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বিষয়টিকে হালকাভাবে নিয়েছেন, বলেছেন PNG-তে এটি “ব্যস্ত সপ্তাহ” ছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়েই যদি মন্ত্রীরা সময় না দেন, তবে তাদের অগ্রাধিকারের জায়গা কোথায়?
তবুও অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তারা আত্মবিশ্বাসী যে চুক্তি “সম্পূর্ণ ঠিক পথে” আছে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্বাক্ষর হবে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, এখানে চীনের ভূমিকা কী?
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই দুই চুক্তিকে “ছোট দেশগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা” হিসেবে সমালোচনা করেছে। তবে বেইজিং এগুলো ভেঙে দেওয়ার জন্য সরাসরি বড় উদ্যোগ নিয়েছে—এমন প্রমাণ নেই।

আলবানিজ চীনা ইস্পাত শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ছবিঃ নাইন নিউজ
PNG-র প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, “বাহ্যিক শক্তি” চুক্তি ঠেকানোর চেষ্টা করছে, যদিও প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে তা অস্বীকার করেছেন। ভানুয়াতুতেও একই ধোঁয়াশা। কেউ বলছে চীন চুক্তি ঠেকাতে চাপ দিচ্ছে, আবার অনেকে বলছে তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না।
যাই হোক, যদি এই দুই চুক্তি ভেস্তে যায়, তবে প্রশান্ত মহাসাগরে বেইজিংয়ের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিযোগিতায় এটি হবে বড় ধাক্কা।
লোই ইনস্টিটিউটের গবেষক মিহাই সোরা বলেন, তিন বছরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর অস্ট্রেলিয়া এখন অঞ্চলের “তীব্র ভূ-রাজনীতির কেন্দ্রে” এসে দাঁড়িয়েছে।
তার মতে, সহায়তা বৃদ্ধি, খেলাধুলায় কূটনীতি বা শ্রম বিনিময়ের মতো সহজ কাজগুলো ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। এখন সবচেয়ে কঠিন বিষয় হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে পাওয়া “সমন্বয় বা অ্যালাইনমেন্ট”—যা কৌশলগত আস্থার ভিত্তি।
“মারাপে যেমন চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করেছিলেন, আলবানিজও তাই করেছিলেন। নাপাতও অস্ট্রেলীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে নতুন নিরাপত্তা চুক্তি করার প্রত্যাশা করেছিলেন,” সোরা বলেন।
“কিন্তু সার্বভৌমত্ব আর সমন্বয়ের প্রশ্ন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে তীব্র বিতর্কিত। তাদের অভ্যন্তরে আরও রাজনৈতিক কাজ করতে হবে, তারপরই অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা সম্পর্ক গড়ার মতো জায়গায় আসবে।”
কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন, গত দুই সপ্তাহের ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে অস্ট্রেলিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল হয়তো প্রাকৃতিক সীমায় পৌঁছেছে।
এক পশ্চিমা কূটনীতিক ABC-কে বলেছেন,
“আপনি কি সত্যিই মনে করেন এই কাগজের টুকরোগুলো টিকে থাকবে? আর যদি PNG ও ভানুয়াতুর মতো জায়গায়ও অস্ট্রেলিয়া চুক্তি সম্পন্ন করতে না পারে, তবে আসলে কোথায় যাচ্ছে পুরো কৌশল?”
সবকিছু এখনো অনিশ্চিত। যদি অস্ট্রেলিয়া দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে চুক্তিগুলো সম্পন্ন করতে পারে, তবে এই ব্যর্থতার ছায়া মিলিয়ে যাবে। কিন্তু তা না হলে, সাম্প্রতিক ব্যর্থতাগুলো হয়তো মনে রাখা হবে সেই মুহূর্ত হিসেবে, যখন আলবানিজ সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্বপ্ন ধাক্কা খেয়ে বাস্তবে নামল।
এ কারণে সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সবারই এখন সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, যাতে সেই দৃশ্য বাস্তবে না ঘটে।
স্টিফেন ডিডজিডিচ এ’বিসি-র পররাষ্ট্রবিষয়ক (এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগর) প্রতিবেদক। তিনি পার্লামেন্ট হাউস ব্যুরো থেকে কাজ করেন। তার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পররাষ্ট্রনীতি এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক কাভার করা। স্টিফেন ২০০৭ সাল থেকে এ’বিসি-তে কাজ করছেন এবং এর আগে পাঁচ বছর ধরে ফেডারেল রাজনীতি কাভার করেছেন।
এবিসি নিউজ থেকে নেয়া। অনুবাদঃ ওটিএন বাংলা ডেস্ক
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au