আইসিসি থেকে বিশাল সুখবর পেল বাংলাদেশ
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় সুখবর পেল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে এখন নবম স্থানে উঠে এসেছে…
মেলবোর্ন , ২৩ সেপ্টেম্বর- দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড় করতে আজ সোমবার ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা যোগ দিচ্ছেন। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এ সম্মেলনের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে।
কিন্তু এমন উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের জাতিসংঘবিষয়ক প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন এ সম্মেলনকে “সার্কাস” উল্লেখ করে বলেন, “এটি কোনো সমাধান নয়, বরং সন্ত্রাসকে উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টা।” তিনি আরও জানান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এ সম্মেলন বর্জন করছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে এগোয়, তবে ইসরায়েল পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাবে। এমনকি পশ্চিম তীরের কিছু অংশ দখল ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনাও করছে তারা।
মার্কিন প্রশাসনও একইভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে—ফ্রান্সসহ যেসব দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তাদের “পরিণাম ভোগ করতে হবে।”
এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ঠিক আগমুহূর্তে। চলতি মাসেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি সাত পৃষ্ঠার ঘোষণাপত্র অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য “সময়সীমাবদ্ধ, স্পষ্ট ও অপরিবর্তনযোগ্য পদক্ষেপ” নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে হামাসের নিন্দা জানিয়ে সংগঠনটির অস্ত্র সমর্পণ ও আত্মসমর্পণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ–নোয়েল বারো এ ঘোষণাকে “ভবিষ্যতের অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি নয়, বরং কার্যকর রোডম্যাপ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “প্রথম অগ্রাধিকার হলো যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবেশ নিশ্চিত করা।”
গতকাল রোববার যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আজকের সম্মেলনে ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ একই ঘোষণা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে কিছু দেশ শর্তসাপেক্ষে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলছে—যেমন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সংস্কার ও প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করে তার ওপর নির্ভর করবে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক স্বীকৃতি।
বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি নাবিল জাবেরের মতে, “স্বীকৃতি দিলেও তাতে তেমন বাস্তব পরিবর্তন আসবে না, কারণ ইসরায়েলের ওপর পর্যাপ্ত চাপ সৃষ্টি করা হবে না।” তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বড় শক্তিধর দেশগুলোর স্বীকৃতি হয়তো কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে যুদ্ধবিরতি আনতে পারে।
অন্যদিকে পশ্চিম তীরের অনেক ফিলিস্তিনি এটিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু আল–ফাহিম বলেন, “ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক অধিকার অর্জনের পথে এটি এক ধরনের বিজয়।”
ইসরায়েলের সাধারণ মানুষ এখনো ক্ষুব্ধ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের আক্রমণ নিয়ে। সে ঘটনায় ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী ১,২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর জবাবে গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল, যা এখনো অব্যাহত। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৬৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক। লাখো মানুষ একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
২৫ বছর বয়সী ইসরায়েলি তরুণী তামারা রাভেহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা তাদের বারবার শান্তির প্রস্তাব দিয়েছি, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাহলে আমরা কেন এমন মানুষের সঙ্গে শান্তি চাইব, যারা হত্যা ও অপহরণ করে?”
ইসরায়েল ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে বিশ্বাস করে না। দেশটির মতে, আব্বাস ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁকে দেওয়া সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম নন।
যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় আব্বাস সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারবেন না। তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেবেন। একইভাবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও অনলাইনে যুক্ত হবেন।
আজকের সম্মেলন ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন গতি আনতে পারে। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র বিরোধিতার কারণে এই পদক্ষেপ কতটা বাস্তব সমাধানে পৌঁছাবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au