‘ভারতীয় বোর্ড আইসিসিকে নিয়ন্ত্রণ করে’
মেলবোর্ন,৬ মে- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সাইমন হারমার। তার দাবি, বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক…
মেলবোর্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর- ভারতের কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র এই সময়-এ জনিত এক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে প্রকাশিত কথোপকথনে জনগণের নজরে আসে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্ধৃত করে যে মন্তব্যগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো নিয়েই জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং বিএনপিরই পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকারটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি মূলত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে শুরু হয়। সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল—আগামী ফেব্রুয়ারি কি সত্যিই নির্বাচিত করা সম্ভব হবে কি না। মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্থানীয় সংবাদে উদ্ধৃত করে বলা হয়, তিনি মনে করেন আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে, সংশয়ের কোনো জায়গা নেই এবং ভোট উৎসবের মতোই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, মানুষ ভোটাধিকার ফিরিয়ে চায় এবং নির্বাচনই তারা চান।
তবে সাক্ষাৎকারে এমন কিছু উদ্ধৃতি প্রকাশিত হয়েছে যেখানে তিনি জামায়াত ও এনসিপি সম্পর্কে তীব্র সমালোচনাস্বরূপ মন্তব্য করেন—উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ‘জামায়াত ভোটে আসবে, পিআর-টিআর নয়; প্রচলিত পদ্ধতিতেই নির্বাচন হবে। এনসিপিকে আমরা কোনো শক্তি বলেই মনে করি না’ এবং ‘এই ছাত্ররাই একসময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের বারুদে আগুন দিয়েছিল, এখন আর তাদের কিছু নেই; ডাকলে লোকও আসে না’—এরকম ভাষায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের শক্তি সম্পর্কে মন্তব্য থাকায় তা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাক্ষাৎকারে এমন কথাও ছাপা হয়েছে যে এনসিপির একমাত্র লক্ষ্য বিএনপিকে সরকার গঠন করা থেকে বাধা দেওয়া।
প্রকাশিত ওই অংশটিতে আরো লেখা ছিল, আগামী নির্বাচনে জামায়াত বিএনপির কাছে ৩০টি আসন দাবী করেছে এবং বিএনপি তাতে উৎসাহ দেখায়নি—এমন কাহিনীও উঠে এসেছিল। সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিবের বোলচালি উদ্ধৃত করে লেখা হয়, ‘জামায়াতকে আমরা আর মাথায় উঠতে দেব না; তাদের যত বড় না শক্তি, আমরা অকারণে তাদের বেশি গুরুত্ব দিয়েছি; পিআর-টিআর সবই বিএনপির ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল’—এমন কিছু মন্তব্যও স্থান পায়। এছাড়া প্রকাশিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘দেশে প্রবলভাবেই মানুষ নির্বাচন চাইছেন; সেনাবাহিনী চাইছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও চাইছেন’।
সাক্ষাৎকারে দেয়া আরও এক আলোচিত বক্তব্য ছিল—২৫ বছর ধরে বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে ছিল; তাই কি দুটো দলের নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হওয়া স্বাভাবিক কি না—এই প্রশ্নের জবাবে সাক্ষাৎকারে উদ্ধৃত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল, ‘ভুল ধারনা ছড়িয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ; তারা শুধু নির্বাচনী শরিক; তারা ধর্মীয় রাজনীতি করে, আমরা করে না’ এবং ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তীব্রভাবে ভারত-বিরোধিতায় পরিণত হয়েছে’—এমন প্রতিপাদ্য দেখা গেছে।
এই সাক্ষাৎকারটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকায়, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে তিনি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছেন যে এই সময়-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি উপস্থাপিত মতগুলো বলেননি। শায়রুল কবিরের দাবি, সাক্ষাৎকারটি ভুল এবং বিভ্রান্তিমূলকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদগুলো ভিত্তিহীন।
দিক বদলের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতি প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্যে তারা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। তিনি বলেছেন, মহাসচিব জামায়াতে ইসলামের রাজনীতি ও সংগঠনের মর্যাদা সম্পর্কে তাচ্ছিল্যপূর্ণ ভাষায় কথা বলায় তারা তা ঘৃণ্য ও প্রতিহিংসাপরায়ণ বলে অভিহিত করছে। গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, যদি সত্যিই এমন কোনো দাবি থাকে যে জামায়াতে কারো কাছে ৩০টি আসন দাবি করেছে, তবে সে দাবির প্রমাণ উপস্থাপন করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান রাজনীতির সঙ্গে ‘আসন চাওয়ার’ প্রথার কোনো মিল নেই এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য বিএনপির মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ নিয়ে বলেছেন, ‘এনসিপি কোনো শক্তি কি না—এটি জনগণই রাজপথে ও ভোটের মাঠে রায় দিয়ে বলবে।’ তিনি ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এনসিপি রাজনৈতিকভাবে অংশগ্রহণ নিয়ে নিজের অবস্থান করেছে এবং বিএনপিকে সরকার গঠনে বাধা দেয়ার মতো কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই; বরং জনগণের সমালোচনামূলক প্রশ্নই রাজনীতিতে তাদের শক্তি নির্ধারণ করবে। নাহিদ বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে ফেরায় আনার বা রাজনীতিতে পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নাই—যারা এই প্রচেষ্টা করবে, জনগণ তাদের বিরুদ্ধেই দাঁড়াবে।’’
এই উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো বক্তব্য দ্রুত দেশের গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, এবং দলের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও মিডিয়া যাচাই-প্রকিয়ার গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। এনসিপি, জামায়াত ও বিএনপির দেওয়া প্রতিক্রিয়াগুলো রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে; একই সঙ্গে বিএনপির নিজ নিজ কেন্দ্র থেকে করা ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ রাজনৈতিক অঙ্গনে ও গণমাধ্যমে আরো আলোচনা তৈরি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au