হামলার কয়েক মিনিট আগে বাইরে গিয়ে প্রাণে বাঁচেন মোজতবা খামেনি: দ্য টেলিগ্রাফ
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য…
মেলবোর্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর- পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ভারত এই চুক্তিকে ঘিরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
গত সপ্তাহে রিয়াদ সফরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে এই কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে বলা হয়েছে, “দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর আগ্রাসনকে উভয়ের ওপর আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে।”
সৌদি কর্মকর্তারা অবশ্য একে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ হিসেবে দেখছেন। তবে ভারত এটিকে সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
ভারতীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান ও সৌদির ঘনিষ্ঠতা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।সাবেক পররাষ্ট্রসচিব কানওয়াল সিবাল একে সৌদির “গুরুতর কৌশলগত ভুল” আখ্যা দিয়েছেন।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখবে।
তবে সবাই এই চুক্তিকে ভারতবিরোধী হিসেবে দেখছেন না।মার্কিন বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, এটি সরাসরি ভারতকে বাধাগ্রস্ত করবে না, কারণ সৌদি–ভারত সম্পর্কও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মুদ্দাসসির কামার বলেছেন, এটি নতুন কিছু নয়, বরং ১৯৬০-এর দশক থেকে বিদ্যমান সৌদি–পাকিস্তান বোঝাপড়ার আনুষ্ঠানিক রূপ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:১৯৬০-এর দশক থেকেই সৌদি আরব পাকিস্তানি সেনাদের ওপর নির্ভরশীল ছিল।১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও সৌদি আরব পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায়।মক্কার মসজিদ অবরোধ দমন, সৌদি বিমানবাহিনী গড়ে তোলা, এমনকি আইএসবিরোধী জোটেও পাকিস্তানি নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করেছে রিয়াদ।
সাবেক পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত হুসাইন হাক্কানি সতর্ক করেছেন, এই চুক্তি পাকিস্তানের জন্য এক ধরনের “অর্থনৈতিক ও সামরিক লাইফলাইন” তৈরি করতে পারে।গবেষক আহমেদ আবুদুহ বলেছেন, এটি যুদ্ধক্ষেত্রের অঙ্গীকার নয়, বরং রিয়াদের নতুন বার্তা যে তারা শুধু ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করবে না।ইরান ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পাকিস্তানের পারমাণবিক মর্যাদা কাজে লাগানোর চেষ্টা থাকতে পারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর পর থেকে রিয়াদ পাকিস্তানি অস্ত্র কিনেছে, সৌদি বিমানবাহিনী গড়ে তুলতে তাদের কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করেছে এবং পাকিস্তানকে একটি আদর্শিক মিত্র ও নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলেছে। ২০১৭ সালে রিয়াদ তার আইএসবিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে বেছে নিয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তিটি ভারতের জন্য তাৎক্ষণিক সামরিক হুমকি নয়।তবে এটি আঞ্চলিক মেরুকরণকে তীব্র করতে পারে এবং ভারতের “পশ্চিমমুখী নীতি” জটিল হয়ে উঠতে পারে।পাকিস্তান এখন চীন, তুরস্ক ও সৌদি—এই তিন পৃষ্ঠপোষকের সমর্থন পাচ্ছে।ভারতকে তাই রাশিয়া, ফ্রান্স, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হতে হতে পারে।
পাকিস্তান–সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি আপাতত ভারতের জন্য সরাসরি সামরিক হুমকি নয়। তবে এটি নয়াদিল্লির জন্য কূটনৈতিক ও কৌশলগত সতর্কবার্তা বয়ে এনেছে। ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য কেমন হবে, তা নির্ভর করবে এই চুক্তির বাস্তবায়ন ও এর পরবর্তী ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au