২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২ মে- দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে…
মেলবোর্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর- রাজধানীর সড়কে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে ফিটনেসহীন পুরোনো গাড়ির কালো ধোঁয়া। ২০–২৫ বছরের পুরোনো এসব লক্কড়ঝক্কড় বাস-মিনিবাস ও ট্রাক শুধু যে যানজট বাড়াচ্ছে তা নয়, নিয়মিত ঢাকার বায়ুকে করছে মারাত্মক দূষিত। অথচ দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার। উল্টো পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের চাপের মুখে পুরোনো গাড়ি সরানোর উদ্যোগও বারবার ভেস্তে গেছে।
গত ২০ জুলাই পুরোনো যানবাহন উচ্ছেদে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। সরকার জানায়, দিন-রাত অভিযান চলবে। কিন্তু পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের ধর্মঘটের হুমকিতে দ্রুতই সে উদ্যোগ থেমে যায়। শুধু তাই নয়, পুরোনো গাড়ি সরানোর পরিবর্তে সরকার এখন মালিকদের জন্য বিশেষ সুবিধার উদ্যোগ নিচ্ছে।
বাণিজ্যিক রিকন্ডিশন্ড বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা প্রাইম মুভার আমদানির বয়সসীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১২ বছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসব গাড়ি কেনার জন্য মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।পাশাপাশি আয়করের বোঝা কমানো ও সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করে চালক-সহকারীর সাজা ও জরিমানা কমানোর প্রস্তাব এসেছে।
৩১ আগস্ট সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আমদানির বয়সসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বিদ্যমান আমদানি নীতি-আদেশ (২০২১-২৪) সংশোধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত ও চীন থেকেও ১২ বছরের পুরোনো গাড়ি আমদানি হতে পারে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়িয়ে পুরোনো গাড়ি আমদানির সুযোগ দিলে দূষণ আরও বাড়বে।
বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, সিদ্ধান্ত বয়স দেখে নয়, গাড়ির ব্যবহার ও দূষণ পরীক্ষার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। ঋণ সুবিধা দেওয়া হলে মালিকরা কেবল সুবিধা নেবেন, কিন্তু অনুপযোগী গাড়ি সরাবেন না।
পরিবেশবিদ ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার জানান, ঢাকার ৮৪% বাস-মিনিবাস ও ৬৯% ট্রাক নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি ধোঁয়া ছড়ায়। অথচ বিআরটিএ থেকে ফিটনেসহীন কোনো গাড়িই প্রত্যাখ্যাত হয় না।
বিআরটিএর বিরুদ্ধে বহুদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, ফিটনেসহীন গাড়িকেও সনদ দেওয়া হয়। এই অনিয়ম বন্ধে সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ফিটনেস পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। নাভানা, রহিমআফরোজের মতো বড় প্রতিষ্ঠানকে এ কাজে যুক্ত করা হতে পারে।
আওয়ামী লীগ আমলে পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করতেন শাজাহান খানসহ ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা। রাজনৈতিক পালাবদলের পর নেতৃত্ব গেছে বিএনপিপন্থী নেতাদের হাতে। তাদের মধ্যে আছেন শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কফিল উদ্দিন আহমেদ, সাইফুল আলমসহ অনেকেই। নতুন নেতৃত্বও পুরোনো গাড়ি উচ্ছেদ অভিযানের বিরোধিতা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণের অন্তত ১৫% আসে ফিটনেসহীন গাড়ি থেকে। কালো ধোঁয়া সবচেয়ে ক্ষতিকর শিশু, গর্ভবতী নারী ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য। গবেষণায় দেখা গেছে, দূষণ অনাগত শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়ায়।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৫ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছিলেন। কিন্তু পরিবহন মালিকদের চাপের মুখে সেটি ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সরকারের নরম নীতি, পরিবহন মালিকদের চাপ ও বিআরটিএর দুর্নীতি মিলে পুরোনো গাড়ি সরানোর উদ্যোগ বারবার ভেস্তে যাচ্ছে। এর ফলে ঢাকার আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে, নাগরিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও পুরোনো গাড়ি উচ্ছেদে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। বরং মালিক-শ্রমিক সংগঠনের চাপে নীতিমালা নরম হচ্ছে। পরিবহন খাতের দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব আর সরকারের দ্বিধাগ্রস্ত নীতি ঢাকার আকাশকে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে রাখছে, আর নাগরিকরা ভুগছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au