বিশ্ব

সহানুভূতিশীল নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত জেসিন্ডা আরডার্ন

  • 1:25 pm - September 25, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৯৫ বার
নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। ছবি: রয়টার্স

মেলবোর্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর- রাজনীতি এমন এক মঞ্চ, যেখানে নেতারা আসেন, প্রভাব বিস্তার করেন এবং একদিন সরে দাঁড়ান। তবে কিছু নেতা থেকে যান মানুষের স্মৃতিতে, তাঁদের আলাদা নেতৃত্বের ধরন ও মানবিকতার জন্য। নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন ঠিক তেমনই এক নাম।

২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাঁর শাসনকাল শুধু নিউজিল্যান্ড নয়, বিশ্বরাজনীতিতেও রেখে গেছে এক অনন্য ছাপ। বয়সে তরুণ হয়েও তিনি দেখিয়েছেন, নেতৃত্ব মানে শুধু কঠোরতা নয়, বরং সহানুভূতি ও মানবিকতার সমন্বয়।

২০১৯ সালের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো, মাথায় ওড়না পরে অশ্রুসিক্ত চোখে বক্তব্য দেওয়া—এসব দৃশ্য বিশ্ববাসীর মনে অমোচনীয় হয়ে আছে। আবার কোভিড-১৯ মহামারির সময় তিনি রাতের বেলায় ফেসবুক লাইভে এসে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন। এভাবেই জেসিন্ডা রাজনীতিকে দিয়েছেন সহানুভূতির নতুন সংজ্ঞা।

মাত্র ৩৭ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হয়ে এবং একই সময়ে মা হয়ে তিনি নারীদের জন্য হয়ে ওঠেন অনুপ্রেরণার প্রতীক। সংসদে সন্তান নিয়ে আসা কিংবা মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার মতো পদক্ষেপ রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করে।

২০২৩ সালে তিনি ঘোষণা দেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আর শক্তি অনুভব করছেন না—“I no longer have enough in the tank।” আধুনিক রাজনীতিতে এমন সৎ স্বীকারোক্তি বিরল। সমালোচনা থাকলেও অনেকে এটিকেই তাঁর নেতৃত্বের স্বকীয়তা হিসেবে দেখেছেন।

রাজনীতি ছাড়ার পর তিনি যুক্ত হয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে। ক্রাইস্টচার্চ কলের মাধ্যমে অনলাইনে ঘৃণাবাদ প্রতিরোধে কাজ করছেন এবং আর্থশট প্রাইজের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছেন।

২০২৫ সালে প্রকাশিত তাঁর স্মৃতিকথা শুধু আত্মজীবনী নয়; বরং নেতৃত্বের এক নতুন দর্শন। এখানে তিনি দেখিয়েছেন—সহানুভূতি দুর্বলতা নয়, বরং এটি এক ধরনের শক্তি। ব্যর্থতা স্বীকার করা, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেছেন।

বইয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ক্ষমতা তাঁর কাছে কখনো আধিপত্য নয়; এটি দায়িত্ব। মাতৃত্ব ও নেতৃত্ব একসঙ্গে সামলানোর অভিজ্ঞতাও খোলামেলা বলেছেন তিনি।

জেসিন্ডার নেতৃত্ব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিখতে পারে—

সহানুভূতি আস্থা গড়ে তোলে।ব্যর্থতা স্বীকার দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি।নেতৃত্বে স্বচ্ছতা ও যোগাযোগ অপরিহার্য।ক্ষমতা মানে দায়িত্ব, অহংকার নয়।বৈশ্বিক সমস্যায়ও নেতাদের ভূমিকা জরুরি।

রাজনৈতিক আলোচনায় হয়তো জেসিন্ডার নাম সময়ের সঙ্গে আড়াল হবে। তবে তাঁর নেতৃত্বের ধরন—সহানুভূতি, সাহস ও মানবিকতার মিশেল—ভবিষ্যতের কাছে থাকবে অনন্য এক দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন, ক্ষমতার মঞ্চেও মানবিকতা জায়গা করে নিতে পারে।

জেসিন্ডা আরডার্ন কেবল নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি এক নতুন ধরনের নেতৃত্বের প্রতীক। তাই তাঁকে সহজে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।

সূত্র: বিবিসি

এই শাখার আরও খবর

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ঢেকে গেছে আকাশ, জাকার্তায় স্থগিত ৩০১ ফ্লাইট

ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে বিপুল পরিমাণ ছাই। এর প্রভাবে রাজধানী জাকার্তার সুকর্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আগ্নেয় ছাইয়ের…

মণিপুরে যৌথ অভিযানে দুই সশস্ত্র সদস্য নিহত, আহত দুই

মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলায় ভারতীয় সেনাবাহিনী ও আসাম রাইফেলসের যৌথ অভিযানে ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মির (ইউকেএনএ) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও দুজন আহত হয়েছেন…

নড়াইলে ৬ শিশুছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ, মাদরাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

নড়াইল সদর উপজেলায় ছয় শিশুছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদরাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এক ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের করা মামলার পর গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার গাছা থানা থেকে…

দিল্লিতে পাঁচতলা ভবন ধস, পেইং গেস্ট পড়ুয়াদের আটকে পড়ার আশঙ্কা

দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় হঠাৎ ধসে পড়েছে পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন। ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে…

তিন দশক পরও সালমান শাহকে ঘিরে আগ্রহের রহস্য কী?

“আমার জীবনের একটা বড় আফসোসের জায়গা হলো সালমান শাহকে নিজের চোখে দেখতে না পারা। উনি বেঁচে থাকলে অবশ্যই গিয়ে দেখা করতাম। এতটা ভালো লাগে সালমান…

অর্থনৈতিক যুদ্ধ মোকাবিলায় টাস্কফোর্স গঠন করল ইরান

চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ টাস্কফোর্স গঠন করেছে ইরান। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যুদ্ধের প্রভাব দ্রুত শনাক্ত করে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au