গাজায় আল–শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির স্বজনদের আহাজারি ।ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর- ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা নগরীর সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল-শিফা মেডিকেল সেন্টার এবং এর আশপাশের আবাসিক এলাকায় একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। এই বেপরোয়া আক্রমণে আতঙ্কিত রোগীরা অসুস্থ অবস্থাতেই হাসপাতাল ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যাচ্ছেন। একইসঙ্গে গাজা দখলের স্থল অভিযানও জোরদার করেছে ইসরায়েল।
আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসা পরিচালক হাসান আল-শাইর জানিয়েছেন, ভয়াবহ হামলার মধ্যেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। বর্তমানে সেখানে অন্তত ১০০ রোগী চিকিৎসাধীন, তবে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীর চাপ ও দফায় দফায় হামলায় চিকিৎসা কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে।
প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলি সেনারা এমন দাহ্য অস্ত্র ব্যবহার করছে যা নির্দিষ্ট এলাকা সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দিতে সক্ষম। হাসপাতালের চারপাশে বিস্ফোরকবাহী গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ইসরায়েল আল–হেলু হাসপাতালেও বোমা বর্ষণ করেছে। এ হাসপাতালে ক্যানসার বিভাগ ও নবজাতক বিভাগে চিকিৎসাধীন অপরিপক্বভাবে জন্ম নেওয়া ১২টি শিশু মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৯০ জনের বেশি চিকিৎসক, নার্স ও রোগী আটকে আছেন। ইসরায়েলি ট্যাংক হাসপাতালের চারপাশ ঘিরে ফেলেছে, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার ইসরায়েলি সেনারা মক্কা টাওয়ার নামের একটি বহুতল ভবনে বোমাবর্ষণ করে। এর আগে রেমাল ও সাবরা এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যেতে সতর্ক করা হয়েছিল। গত কয়েক সপ্তাহে শুধু গাজা নগরীতেই অন্তত ৫০টি বহুতল ভবন ধ্বংস করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি বাহিনী নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। ভারী গোলাবারুদ, ড্রোন ও বোমা ব্যবহার করে পুরো ভবনের ভিত্তি পর্যন্ত ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে হাজারো পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং গাজা নগরীর অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।
ইসরায়েলের এসব হামলার ফলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর আকার ধারণ করেছে। চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন, অব্যাহত আক্রমণে চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে এবং হাজারো রোগী জীবনের ঝুঁকিতে পড়বে।
সুত্রঃ আল–জাজিরা